তথ্য প্রযুক্তি

এআইয়ের কারসাজিতে নতুন রূপে ডোনাল্ড ট্রাম্প: ভাইরাল ভিডিওতে অবাক জনতা

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এআই (আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স) প্রযুক্তির ব্যবহার করে সেলিব্রিটি বা পরিচিত ব্যক্তিত্বদের বিকল্প রূপে উপস্থাপনের প্রবণতা বেড়েই চলেছে। সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বিভিন্ন দেশের পোশাকে ও পরিবেশে কল্পনা করে তৈরি একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। ইনস্টাগ্রামে শেয়ার হওয়া এই ভিডিওটি এরই মধ্যে ৯ মিলিয়নেরও বেশি বার দেখা হয়েছে।

এআই প্রযুক্তির সহায়তায় তৈরি এই ভিডিওতে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বিভিন্ন দেশের স্থানীয় সংস্কৃতি ও চেহারার সাথে মানানসই করে দেখানো হয়েছে। ভিডিওটির নির্মাতা তার মুখ, পোশাক এবং পারিপার্শ্বিকতা এমনভাবে পরিবর্তন করেছেন যেন মনে হয় ট্রাম্প সত্যিই সেই দেশের নাগরিক। প্রতিটি সংস্করণে তার একটি স্থানীয় নামও দেওয়া হয়েছে, যা দর্শকদের কাছে হাস্যকর এবং বিনোদনমূলক ঠেকছে।

ভিডিওটিতে ট্রাম্পকে ভারতীয় সংস্করণে “ধনাল ট্রাম্পার” নামে জোধপুরি কোট পরিহিত অবস্থায় দেখা যায়। রাশিয়ান সংস্করণে তাকে “দিমিত্রি ট্রুমোভ” হিসেবে রেড স্কোয়ারের সামনে দাঁড়ানো অবস্থায় উপস্থাপন করা হয়েছে। এছাড়াও ইতালির “ডোনাল্ডো ট্রোম্বি,” চীনের “ডং লে ডি টুলান,” নাইজেরিয়ার “ডোনাল ওকোরোম্পা” এবং ইংল্যান্ডের “স্যার ডোনাল্ড ট্রাম্পটন” – এই সব রূপে ট্রাম্পকে দেখে মুগ্ধতা ও কৌতুকবোধ করেছেন দর্শকরা।

“যদি ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ না করে অন্য কোথাও জন্মগ্রহণ করতেন?” – এই প্রশ্নটিই ছিল ভিডিওটির মূল থিম।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিওটি শেয়ার হওয়ার পর থেকে ব্যবহারকারীরা মন্তব্য বিভাগে হাস্যরসাত্মক প্রতিক্রিয়া এবং কৌতুকপূর্ণ মন্তব্য দিয়ে ভরিয়ে দিয়েছেন। অনেকেই নাইজেরিয়ান এবং ইতালিয়ান সংস্করণগুলোকে সবচেয়ে মজার ও সৃজনশীল বলে উল্লেখ করেছেন।

একজন ব্যবহারকারী মন্তব্য করেছেন, “নাইজেরিয়ান সংস্করণটি দেখে আমি হাসতে হাসতে গড়াগড়ি খেয়েছি।” অন্য একজন লিখেছেন, “মূল চেহারার চেয়ে ট্রাম্পকে সব জায়গায় দেখতে বেশি ভালো লাগছে।” তৃতীয় একজন ব্যবহারকারী মজা করে লিখেছেন, “ইতালির ট্রাম্পকে দেখে মনে হচ্ছে তিনি জেমস বন্ডের চরিত্রে অভিনয় করতে পারেন,” এবং আরেকজন মন্তব্য করেছেন, “সবগুলোই ভালো লাগছে, শুধু আসলটা ছাড়া।” কেউ কেউ এই এডিটগুলোকে বুদ্ধিদীপ্ত এবং আশ্চর্যজনকভাবে বাস্তবসম্মত বলেও অভিহিত করেছেন।

এআই প্রযুক্তির এই সৃজনশীল ব্যবহার সামাজিক মাধ্যমে ক্রমশ নতুন মাত্রা যোগ করছে, যেখানে পরিচিত মুখগুলোকে অপ্রত্যাশিত ও বিনোদনমূলক রূপে দেখতে পাচ্ছেন দর্শক। এই ধরনের ভিডিও ট্রেন্ড ইঙ্গিত দেয় যে ভবিষ্যতে এআই শুধু তথ্যের ক্ষেত্রেই নয়, বিনোদনের জগতেও আরও বড় ভূমিকা পালন করবে। মানুষ এখন এমন আরও নতুন কী কী রূপে তাদের প্রিয় ব্যক্তিত্বদের দেখতে পাবে, সেই অপেক্ষাতেই রয়েছে।

এই বিভাগের আরও

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button