টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে হারের চাপ, খেলোয়াড়দের পরিবারের ওপর সমর্থকদের আক্রমণে ক্ষুব্ধ সাব্বা মানজার

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইটে ইংল্যান্ডের কাছে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে পড়ার শঙ্কায় পড়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট দল। এই পরাজয়ের পর থেকেই ক্রিকেটারদের পাশাপাশি তাদের পরিবারের সদস্যদের লক্ষ্য করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেতিবাচক মন্তব্য ও সমালোচনার ঝড় তুলেছেন কতিপয় সমর্থক।
ক্রিকেটারদের পরিবারের ওপর সমর্থকদের এমন অপেশাদার আচরণে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানি অধিনায়ক সালমান আলি আগার স্ত্রী সাব্বা মানজার। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হারের পর পাকিস্তানের সেমিফাইনালের পথ কঠিন হয়ে পড়লে ক্রিকেটারদের পরিবারের ওপর চড়াও হন সমর্থকরা। এর প্রতিবাদে সাব্বা মানজার একটি বার্তায় লেখেন, ‘আমাকে বা আমার নির্দোষ সন্তানকে গালি দিলে তোমরা বিশ্বকাপ জিততে পারবে না।’ যদিও পরে তিনি সামাজিক মাধ্যম থেকে সেই পোস্টটি সরিয়ে নেন।
এই ঘটনা আবারও সামনে এনেছে খেলার ফলাফলের কারণে খেলোয়াড় ও তাদের পরিবারের সদস্যদের ব্যক্তিগত আক্রমণের শিকার হওয়ার বিষয়টি। এমন পরিস্থিতি খেলোয়াড়দের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে এবং খেলায় মনোযোগ ধরে রাখতে তাদের জন্য বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে।
ম্যাচ শেষে নিজের হতাশা লুকাননি অধিনায়ক সালমান আলি আগাও। তিনি জানান, ব্যাট হাতে ভালো শুরু করলেও শেষটা আশানুরূপ হয়নি। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১৬৪ রান সংগ্রহ করেছিল পাকিস্তান। জবাবে হ্যারি ব্রুকের অনবদ্য সেঞ্চুরিতে ২ উইকেট ও ৫ বল হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে ইংল্যান্ড। প্রতিপক্ষ অধিনায়ককে প্রশংসা করে সালমান আগা বলেন, ‘মাঝে মাঝে প্রতিপক্ষকে কৃতিত্ব দিতেই হয়। হ্যারি ব্রুক অসাধারণ খেলেছেন। আমাদের সংগ্রহ কিছুটা কম ছিল; আমরা সব চেষ্টা করেও তাকে থামাতে পারিনি।’ তবে, অধিনায়কের এই পেশাদার মন্তব্যের বিপরীতে সমর্থকদের ব্যক্তিগত আক্রমণ ক্রিকেট মহলে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।
খেলাধুলার এমন পরিস্থিতিতে সমর্থকদের আবেগ থাকা স্বাভাবিক হলেও, সেই আবেগ যেন কোনোভাবে খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত জীবন ও পরিবারের শান্তি বিঘ্নিত না করে, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এই ঘটনা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের খেলোয়াড়দের জন্য খেলার প্রতি আগ্রহ হারানোর কারণ হতে পারে বলেও অনেকে আশঙ্কা করছেন।





