জাতীয় ক্রীড়াবিদদের বেতন নতুন, যা জানলে অবাক হবেন!

দেশের ক্রীড়াঙ্গনে এক ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। খেলাধুলাকে কেবল শখ বা বিনোদন নয়, বরং একটি মর্যাদাপূর্ণ ‘পেশা’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে জাতীয় ক্রীড়াবিদদের বেতন কাঠামোর আওতায় এনে ক্রীড়া ভাতা ও ক্রীড়া কার্ড প্রদান কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী। সোমবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এই যুগান্তকারী পদক্ষেপের ঘোষণা দেন। একইসাথে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য অর্জনকারী ১২৯ জন ক্রীড়াবিদকে মোট ২ কোটি ৪৪ লক্ষ টাকার বিশেষ সম্মাননা ও অর্থ পুরস্কার প্রদান করা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জানানো হয়, ‘করবো কাজ, গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’—এই অঙ্গীকার নিয়ে ক্রীড়াঙ্গনকে আমূল বদলে দেওয়ার পরিকল্পনা চলছে। আধুনিক ক্রীড়া কাঠামোর ভিত্তি স্থাপন করে দেশের প্রতিটি জেলায় আন্তর্জাতিক মানের ‘স্পোর্টস ভিলেজ’ এবং প্রতিটি ইউনিয়নে খেলার মাঠ তৈরির মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। আগামী ৩০শে এপ্রিল থেকে সারাদেশে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচির মাধ্যমে তৃণমূলের প্রতিভা অন্বেষণ শুরু হবে। এছাড়া ২০২৭ সাল থেকে জাতীয় শিক্ষাক্রমে চতুর্থ শ্রেণি থেকেই খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, ক্রীড়াবিদদের সামাজিক ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই ‘ক্রীড়া কার্ড’ একটি শক্তিশালী ঢাল হিসেবে কাজ করবে। তৃণমূল পর্যায়ে ক্রীড়া শিক্ষা প্রসারে দেশের প্রতিটি উপজেলায় ক্রীড়া অফিসার ও শিক্ষক নিয়োগের জন্য পদ সৃজনের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। বিভাগীয় শহরগুলোর সাতটি বিকেএসপি শাখাকে পূর্ণাঙ্গ বিকেএসপিতে রূপান্তরের মাধ্যমে আঞ্চলিক পর্যায়ে বিশ্বমানের প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের গৌরব বয়ে আনা ১২৯ জন ক্রীড়াবিদকে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে আর্থিক পুরস্কারের চেক প্রদান করা হয়। স্বর্ণজয়ী একক ক্রীড়াবিদ ৩ লক্ষ টাকা, রৌপ্য পদক বিজয়ীরা দুই লাখ এবং ব্রোঞ্চ জয়ীরা এক লাখ টাকা পুরস্কার পেয়েছেন। দলগতভাবে বিজয়ীদের যথাক্রমে ২ লাখ, দেড় লাখ ও এক লাখ টাকা করে আর্থিক পুরস্কার দেয়া হয়। ক্রীড়াভাতার অংশ হিসেবে প্রত্যেককে মাসে এক লাখ টাকা করে দেয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ক্রীড়াবিদদেরও এই সম্মাননার আওতায় আনা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তরুণ ক্রীড়াবিদদের ‘নতুন বাংলাদেশের সোনালি প্রহরের অগ্রদূত’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, আধুনিক প্রশিক্ষণ, সরকারি আর্থিক নিরাপত্তা এবং একটি পূর্ণাঙ্গ ‘ক্রীড়া শিল্প’ (Sports Industry) গড়ে তোলার মাধ্যমে বাংলাদেশ অদূর ভবিষ্যতে অলিম্পিক, এশিয়ান গেমস ও সাফ গেমসের মতো আসরগুলোতে বিশ্বজয়ের নতুন ইতিহাস লিখবে।





