এনসিপি

এনসিপির অঙ্গীকার: ফ্যাসিবাদ ছেড়ে দেশ নতুন পথে…!

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) তাদের প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শনিবার রাজধানীর আবাহনী ক্রীড়া মাঠে এক ইফতার মাহফিলের আয়োজন করেছে। এই আয়োজনে দলের কেন্দ্রীয় ও তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন, যেখানে দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক গতিপথ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, এক বছরে এনসিপি নানা অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে এগিয়েছে এবং গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে দেশও বহুমাত্রিক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছে। তিনি এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর মূল প্রতিপাদ্য তুলে ধরেন— “দেশ আর যাবে নতুন পথে, ফিরবে না আর ফ্যাসিবাদে।” নাহিদ ইসলাম জানান, দেশ ফ্যাসিবাদী শাসন থেকে বেরিয়ে এসেছে এবং এখন পূর্ণাঙ্গ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করাই তাদের মূল লক্ষ্য। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সংস্কার, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং গণভোটের রায় কার্যকর করার আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। তিনি গণহত্যা, গুম ও খুনের সঙ্গে জড়িতদের বিচার নিশ্চিতে এনসিপির দৃঢ় অবস্থানের কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন।

নাহিদ ইসলাম আরও উল্লেখ করেন, “বিপ্লব, বিকল্প ও বিনির্মাণ” তাদের আরেকটি মূল প্রতিপাদ্য। তার মতে, বিপ্লবের শক্তি থেকেই বিকল্প নেতৃত্বের জন্ম হয়েছে, যা বাংলাদেশকে নতুনভাবে গড়ে তুলতে চায়। ২০১৩ সালের হেফাজতে ইসলামের আন্দোলন থেকে শুরু করে কোটা সংস্কার, নিরাপদ সড়ক, ভ্যাটবিরোধী আন্দোলন এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি এনসিপির জন্ম হয় বলে তিনি জানান। আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দ্রুত আয়োজনের প্রত্যাশা জানিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তৃণমূল সংগঠনকে শক্তিশালী করে আগামী দিনে রাজনৈতিক অর্জন বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন এনসিপির আহ্বায়ক। সর্বশেষ নির্বাচনে ছয়টি আসনে বিজয় অর্জন করলেও, দলটি এতে সন্তুষ্ট নয় এবং ভবিষ্যতে আরও বড় সাফল্যের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করবে বলে তিনি জানান।

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, গণতন্ত্রের মাঠে নতুন রাজনৈতিক শক্তির উত্থান দেশের রাজনীতিকে আরও গতিশীল ও সমৃদ্ধ করবে। তিনি এনসিপির যাত্রার শুরু থেকেই দলটির প্রতি আশাবাদ ব্যক্ত করেন এবং তরুণদের রাজনীতিতে অংশগ্রহণকে দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্য ইতিবাচক বলে উল্লেখ করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, নির্বাচনি সমঝোতার মাধ্যমে জাতীয় সংসদে এনসিপির ছয়টি আসন লাভ করা একটি বড় অর্জন, যা ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে। তিনি বলেন, বর্তমান ও আগামী প্রজন্ম এমন রাজনীতি চায়, যা জনগণের প্রত্যাশা ও চাহিদাকে ধারণ করে। অতীতের ইতিহাসে সীমাবদ্ধ না থেকে ভবিষ্যৎ নির্মাণের রাজনীতি করার আহ্বান জানান তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, এনসিপি ২০২৪ সালের জুলাই ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবে এবং সংসদই হবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু, যেখানে জাতীয় স্বার্থে ঐকমত্য গড়ে উঠবে।

ইফতার আয়োজনে আরও উপস্থিত ছিলেন কবি ও চিন্তক ফরহাদ মজহার, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু এবং নৌ, রেল, সেতু ও সড়ক পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীবসহ দলের অন্যান্য কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের নেতারাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দলীয় নেতারা ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন এবং বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। আগামী দিনগুলোতে এনসিপির এই অঙ্গীকার ও কর্মপরিকল্পনা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে কী প্রভাব ফেলে, সেদিকেই তাকিয়ে আছে সাধারণ মানুষ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button