মিন্টো রোডের লাল বাড়ি জামায়াত আমিরকে: বিরোধীদলীয় নেতার পরিচয় ঘিরে প্রশ্ন?

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ঢাকার মিন্টো রোডের ঐতিহাসিক ‘লাল বাড়ি’ খ্যাত ২৯ নম্বর বাসভবনটি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের জন্য বরাদ্দ দিয়েছে। যদিও এই বরাদ্দের ক্ষেত্রে তাকে ‘বিরোধীদলীয় নেতা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যা বর্তমান রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে খালি পড়ে থাকা দোতলা এই ঐতিহাসিক ভবনটি বর্তমানে মেরামত ও সংস্কার করা হচ্ছে।
ব্রিটিশ আমলে প্রায় আড়াই একর জায়গার ওপর নির্মিত এই লাল রঙের দোতলা ভবনটি ‘লাল বাড়ি’ নামেই পরিচিত। এটি বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা হিসেবে স্থান করে নিয়েছে। ভবনটি দীর্ঘ সময় ধরে অব্যবহৃত থাকায় বেশ জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছিল। এখন পূর্ত মন্ত্রণালয় সেখানে জোরেশোরে মেরামত ও সংস্কার কাজ চালাচ্ছে। মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এই বাসভবনটিকে বসবাসের উপযোগী করে তুলতে আরও এক থেকে দেড় মাস সময় লাগতে পারে। গণপূর্ত অধিদপ্তরের একজন প্রকৌশলী জানিয়েছেন, প্রায় নব্বই ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে; এখন শুধু রাস্তার অংশ ও রঙের ফিনিশিং কাজ বাকি। আসবাবপত্রও নতুন বাসিন্দার চাহিদা অনুযায়ী দেওয়া হবে।
১৯৯১ সালে পঞ্চম জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা এই বাসভবনে উঠেছিলেন। পরবর্তীতে ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এখানে নিয়মিত কার্যালয় পরিচালনা করতেন। সে সময় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের পদচারণায় বাড়িটি ছিল সরগরম, চারপাশও থাকত প্রাণচাঞ্চল্যে ভরপুর। তবে ২০০১ সালে খালেদা জিয়া ভবনটি ছেড়ে দেওয়ার পর দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে সেখানে আর কোনো বিরোধীদলীয় নেতা বসবাস করেননি।
জানা গেছে, ১৯৯৬-২০০১ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে বিএনপি-জামায়াতসহ চারদলীয় জোটের আন্দোলনের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু ছিল এই লাল বাড়ি। জোটের শীর্ষ নেতারা এখানে অসংখ্যবার বৈঠক করেছেন। এবার জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানকে এই বাড়ি বরাদ্দ দেওয়ায় রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর একজন শীর্ষ নেতা জানান, তাদের দলের আমিরকে বিরোধীদলীয় নেতা নির্বাচিত করা হয়েছে। তিনি শপথের পর এবং তার আগেও বলেছেন যে জামায়াত ইতিবাচক রাজনীতি করবে। তবে এখন পর্যন্ত দলীয়ভাবে বা আমিরের পক্ষ থেকে ওই বাড়িতে ওঠার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, সংসদ সচিবালয় বা সরকার নিয়ম অনুসারেই বিরোধীদলীয় নেতার জন্য ২৯ মিন্টো রোডের এই বাড়িটি বরাদ্দ দিয়েছে। তিনি কখন বা কবে নাগাদ উঠবেন, সে বিষয়ে দলের কোনো ফোরামে এখনো আলোচনা হয়নি। তিনি আরও যোগ করেন, সংসদ অধিবেশন শুরু হওয়ার পরই এ বিষয়ে দলীয় নীতিনির্ধারণী ফোরামে আলোচনা করে জানানো হবে।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ব্রিটিশ আমলে সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য নির্মিত এই বাসভবনটি পরবর্তীতে জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতার জন্য নির্ধারিত হয়। দুই দশকের বেশি সময় ধরে নিভৃতে দাঁড়িয়ে থাকা এই বাসভবনের আশপাশে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কর্মকর্তাদের বাসভবন রয়েছে। ঐতিহাসিক এই বাড়িটি আবার রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসায় এর ভবিষ্যৎ ব্যবহার ও রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে মানুষের মধ্যে এক ধরনের অপেক্ষা তৈরি হয়েছে।



