হঠাৎ অনলাইন ক্লাসের উদ্যোগে দেশে বড় সংকট? যা বললেন জামায়াতের নেত্রী!

দেশের স্কুল-কলেজে সপ্তাহে তিন দিন অনলাইন ক্লাস চালুর সরকারি প্রস্তাবনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নূরুন্নিসা সিদ্দীকা। শনিবার (৩ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে তিনি এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
নূরুন্নিসা সিদ্দীকা বলেন, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের এই পরিস্থিতিতে শিক্ষাব্যবস্থার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা না করে হঠাৎ করে অনলাইন ক্লাস চালুর উদ্যোগ নেওয়াটা অযৌক্তিক। তিনি জানান, দেশের বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী এখনও প্রযুক্তিগত সুবিধা, মানসম্মত ইন্টারনেট সংযোগ এবং প্রয়োজনীয় ডিভাইসের নাগালের বাইরে। এমন অবস্থায় অনলাইন ক্লাস বাধ্যতামূলক করা হলে সমাজের দরিদ্র ও প্রান্তিক পরিবারের শিক্ষার্থীরা মারাত্মক বৈষম্যের শিকার হবে এবং অনেকেই শিক্ষাঙ্গন থেকে ছিটকে পড়বে।
এর আগে করোনাকালে শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা তারা এখনো পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে পারেনি। নূরুন্নিসা সিদ্দীকা প্রশ্ন তোলেন, শিল্প-কারখানা যেমন বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য বন্ধ রাখা যায় না, তেমনি অনলাইনে ক্লাস বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের উপায় হতে পারে কিনা। তিনি মনে করেন, জ্বালানি সাশ্রয়ে এই খাতে দুর্নীতি, লুটপাট ও অপচয় বন্ধে কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। শ্রেণিকক্ষের স্বাভাবিক পরিবেশে পাঠদান, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সরাসরি যোগাযোগ এবং সহপাঠীদের সাথে পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়া শিক্ষার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, যা অনলাইনের মাধ্যমে পূর্ণভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, দেশের শিক্ষাখাত বর্তমানে এমন এক সময়ে রয়েছে যখন সংস্কার ও পুনর্গঠন অত্যন্ত জরুরি। এই সময়ে প্রয়োজন শিক্ষার মানোন্নয়ন, পাঠদানের পরিবেশ উন্নত করা এবং শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠাভ্যাসে ফিরিয়ে আনার কার্যকর উদ্যোগ। এর পরিবর্তে অনলাইন ক্লাসকে প্রধান বিকল্প হিসেবে দাঁড় করানো কোনোভাবেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হতে পারে না। তিনি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ও সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থার স্বার্থ বিবেচনায় রাখার জন্য সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান। শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও কার্যকর পাঠদান নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক এবং শিক্ষাখাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হোক।





