জুলাই সনদ নিয়ে বিএনপি কি করছে? ছাত্রশিবিরের তোপে চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস

জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনাকে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে নস্যাৎ করার অপচেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ছাত্র সংগঠন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, ২৫টি রাজনৈতিক দলের ঐকমত্যে স্বাক্ষরিত ‘জুলাই সনদ’ বর্তমানে খোদ বিএনপির হাতেই জিম্মি হয়ে পড়েছে। রাজপথের লড়াইয়ের মাধ্যমে অর্জিত বিজয়কে কোনো আইনি মারপ্যাঁচে নস্যাৎ করার চক্রান্ত ছাত্র-জনতা বরদাস্ত করবে না। পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে ছাত্রশিবির মাঠে সক্রিয় থাকবে বলেও তিনি জানান।
মঙ্গলবার (গত মঙ্গলবার) ছাত্রশিবিরের দুই দিনব্যাপী মাসিক কেন্দ্রীয় সেক্রেটারিয়েট বৈঠক ও ঈদ পুনর্মিলনীতে সভাপতির বক্তব্যে নূরুল ইসলাম এসব কথা বলেন। বৈঠকে সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহসহ কেন্দ্রীয় সেক্রেটারিয়েট সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সেখানে মার্চ মাসের রিপোর্ট পর্যালোচনা ও এপ্রিল মাসের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।
নূরুল ইসলাম আরও বলেন, গত বছরের ১৭ অক্টোবর অধিকাংশ দলের সম্মতিতে জুলাই সনদ স্বাক্ষরিত হয়েছিল এবং ১৩ নভেম্বরের রাষ্ট্রপতির আদেশ অনুযায়ী ১২ ফেব্রুয়ারি গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। গণভোটে দেশের ৬৮.৫৯ শতাংশ মানুষ এই সনদের পক্ষে রায় দিলেও, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া মানে জনগণের এই রায় অগ্রাহ্য করার লাইসেন্স পাওয়া নয়।
সরকারের গড়িমসি ও টালবাহানাকে জনগণের ম্যান্ডেটের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, সরকার মানবাধিকার কমিশন, পুলিশ কমিশন, গুম প্রতিরোধ কমিশন এবং বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের মতো গুরুত্বপূর্ণ ১৫টি সংস্কারের অধ্যাদেশ রহিত বা সংশোধন করে প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনরায় দলীয়করণ করতে চাচ্ছে। বিচারপতি নিয়োগে স্বচ্ছ বাছাই কমিটি ও সুপ্রিম কোর্টের স্বাধীন সচিবালয় প্রতিষ্ঠার বাধা দেওয়ার মাধ্যমে বিচার বিভাগের ওপর নির্বাহী বিভাগের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে। নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি এখন অস্বীকার করা রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব ছাড়া আর কিছু নয়।
বৈঠকে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে জনমত গঠন এবং সরকারের অগণতান্ত্রিক আচরণের প্রতিবাদে বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে মাঠে থাকার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।





