বিএনপি কি আবার ক্ষমতায় আসছে? তারেক রহমানের হঠাৎ সিদ্ধান্তে তোলপাড়!

দীর্ঘদিন পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তাদের রাজনীতিতে স্থবিরতা কাটাতে চাইছে। সরকার পরিচালনায় ব্যস্ততা এবং মাঠের কর্মকাণ্ডে ভাটার কারণে দলের তৃণমূলে এক ধরনের নিষ্ক্রিয়তা দেখা গেছে। এই পরিস্থিতি বদলাতে এবার কোমর বেঁধে নেমেছে বিএনপি হাইকমান্ড। দল ও সংগঠনের বিভিন্ন স্তরে নেতৃত্বের পুনর্বিন্যাস এবং দলীয় কর্মকাণ্ড বাড়াতে তৎপরতা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় এবং গুলশানে চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় প্রধান তারেক রহমানের সরাসরি উপস্থিতি এবং অফিস করার বিষয়টি এই প্রচেষ্টারই অংশ বলে মনে করছেন দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় লাভের পর প্রায় ২০ বছর পর সরকার গঠনের সুযোগ পায় বিএনপি। বিপুল জনসমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় এলেও, মাঠের কার্যক্রম না থাকায় দলটি কিছুটা ঝিমিয়ে পড়েছে। শীর্ষ নেতাদের বেশিরভাগই সরকারের অংশ হওয়ায় দলীয় কর্মকাণ্ডে মননিবেশ করতে পারছেন না। নেতাকর্মীদের একটি অংশ এমপি-মন্ত্রীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা ও ব্যক্তিগত প্রত্যাশা পূরণে ব্যস্ত থাকায় দল ও সংগঠনকেন্দ্রিক সময় দেওয়া হচ্ছে না। এর ফলে রাজনৈতিক কর্মসূচি, আদর্শিক চর্চা এবং সংগঠন শক্তিশালী করার কাজ কিছুটা পিছিয়ে পড়েছে, যা তৃণমূল পর্যায়ে কর্মীদের মাঝে উদ্দীপনার অভাব তৈরি করেছে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে দলকে আরো সক্রিয় করার চেষ্টা করছে বিএনপি। কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত সাংগঠনিক যোগাযোগ বাড়ানো, কর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত মতবিনিময় এবং মাঠ পর্যায়ে সক্রিয়তা বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছেন নেতারা। প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান সম্প্রতি নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় এবং গুলশানে তার রাজনৈতিক কার্যালয়ে গিয়ে নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। তারেক রহমানের এই উপস্থিতি নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করেছে।
বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল মনে করেন, তারেক রহমানের এই উদ্যোগ দলকে চাঙা করার একটি প্রচেষ্টা। তিনি বলেন, দলের নেতৃত্বে বড় পরিবর্তন এবং সরকার গঠনের পরপরই চেয়ারম্যান দলের স্থবিরতা অনুধাবন করেছেন। তাই সরাসরি নেতাদের সঙ্গে কথা বলে, পরামর্শ দিয়ে এবং সাংগঠনিক পুনর্গঠনের মাধ্যমে তিনি দলকে সক্রিয় করতে চাইছেন। স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে চেয়ারম্যানের এই উদ্যোগ সাংগঠনিক শক্তি ও প্রাণবন্ততা বৃদ্ধির অংশ।
অন্যদিকে, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বিরোধী দলের রাজনৈতিক তৎপরতার অভাবকেও দলের ঝিমিয়ে পড়ার একটি কারণ হিসেবে দেখছেন। তবে তিনি জানিয়েছেন, দলকে সুসংগঠিত করতে একটি প্রক্রিয়া চলছে এবং শিগগিরই সাংগঠনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি তারেক রহমানের দলীয় কার্যালয়ে নেতাকর্মীদের সামনে আসার বিষয়টি সময় দেওয়া এবং তাদের কথা শোনার একটি প্রয়াস বলে উল্লেখ করেছেন।





