বিচারপতি নিয়োগের ক্ষমতা অতীত? নতুন অধ্যাদেশ নিয়ে তোলপাড়!

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা অন্তত ২০টি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ, যার মধ্যে বিচারপরম্পরার স্বাধীনতা ও নিয়োগ সংক্রান্ত আইনও রয়েছে, চলতি অধিবেশনে অনুমোদন পাচ্ছে না। এর ফলে সুপ্রিম কোর্টের স্বাধীনতা-সম্পর্কিত তিনটি অধ্যাদেশ বাতিল হয়ে যাচ্ছে। গণভোট, দুর্নীতি দমন কমিশন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এবং গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশসহ মোট ২০টি অধ্যাদেশ নতুন করে যাচাই-বাছাই শেষে সংসদে বিল আকারে উত্থাপন করা হবে।
বিশেষ কমিটি কর্তৃক ১৩৩টি অধ্যাদেশের বিষয়ে উত্থাপিত প্রতিবেদনে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী ২০টি অধ্যাদেশের বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে। সংবিধানে বলা আছে, কোনো অধ্যাদেশ সংসদে উত্থাপনের ৩০ দিনের মধ্যে অনুমোদন না হলে তা বাতিল হয়ে যাবে। সেই হিসেবে, আগামী ১০ এপ্রিলের পর এই ২০টি অধ্যাদেশ কার্যকারিতা হারাবে।
এর মধ্যে বিচারপরম্পরার নিয়োগ এবং সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ বাতিলের উদ্যোগ বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও আইনের শাসনকে হুমকির মুখে ফেলবে বলে বিশিষ্ট আইনজীবীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার উদ্যোগগুলোও এতে বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মূলত, জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) আদেশ-২০২৫ এর আলোকে প্রণীত গণভোট অধ্যাদেশসহ কিছু অধ্যাদেশ সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে বিবেচিত হয়েছে। বিশেষ কমিটি বিচারপরম্পরা সংক্রান্ত তিনটি অধ্যাদেশ এবং সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ বাতিলের সুপারিশ করেছে। সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রপতির ভূমিকা প্রায় থাকছে না এবং একটি স্বাধীন কাউন্সিল কর্তৃক প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে নিয়োগের বিধানকে সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ বাতিল হলে সরকারের সঙ্গে বিচার বিভাগের সমন্বয়হীনতা বাড়বে এবং নিম্ন আদালতের ওপর নির্বাহী বিভাগের প্রভাব আরো বাড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। এছাড়া, দুর্নীতি দমন কমিশন অধ্যাদেশ সংশোধনের মাধ্যমে তদন্ত ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বিদেশে সংঘটিত অপরাধকেও আইনের আওতায় আনার বিধানগুলোও পর্যালোচনার অধীনে রয়েছে।
এই অধ্যাদেশগুলো বাতিল বা সংশোধনের প্রস্তাব জুলাই বিপ্লবের চেতনার পরিপন্থী বলে মতামত ব্যক্ত করেছেন অনেকে। রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহিতা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করার যে জাতীয় ঐক্যমত্য তৈরি হয়েছিল, তা এই সিদ্ধান্তগুলোর মাধ্যমে ক্ষুণ্ণ হতে পারে বলে মনে করছেন আদালত সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো।





