ছেলেকে গুম করে হত্যা! জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে যা বললেন নিহত সজলের মা

আওয়ামী লীগের শাসনামলে শতাধিক মানুষকে গুম ও হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় বরখাস্ত সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন নিহত সজলের মা ভুলূ বেগম। বৃহস্পতিবার (আজ) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ জবানবন্দি দেন তিনি।
ভুলূ বেগম ট্রাইব্যুনালে বলেন, ২০১১ সালে তিনি দুই ছেলেকে নিয়ে ঢাকার গেণ্ডারিয়ায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। তার বড় ছেলে আজাদের বাস হেলপার এবং ছোট ছেলে সজলের ইট-বালুর দোকানে কাজ করতো। ২০১১ সালের ৪ জুলাই দুপুরে ছোট ছেলে সজল ভাত খেতে চাইলে সে মোবাইলে একটি কল আসে এবং কথা বলতে বলতে বাসা থেকে বের হয়ে যায়। এরপর সে আর ফিরে আসেনি। আসরের নামাজ পর্যন্ত অপেক্ষা করেও সজল ফিরে না আসায় তিনি ও তার বড় ছেলে আজাদ তাকে খুঁজতে বের হন। প্রায় ৮-৯ দিন খুঁজেও তাকে না পেয়ে থানা-প্রশাসনে যোগাযোগ করলে তারা কোনো সহযোগিতা করেনি।
পরবর্তীতে, ২০১১ সালের ১৩ জুলাই তারা গাজীপুর এলাকার একটি হাসপাতালে দুটি লাশ পড়ে থাকার খবর পান। সজলের বড় ভাই আজাদ খবর পেয়ে গাজীপুর হাসপাতালে গিয়ে সজলের লাশ শনাক্ত করেন। ১৪ জুলাই আত্মীয়-স্বজনরা গাজীপুর থেকে সজলের লাশ বুঝে পেয়ে জুরাইন কবরস্থানে দাফন করেন।
ভুলূ বেগম জানান, তার ছেলে সজল বিএনপির রাজনীতি করতেন এবং তিনি পরবর্তীতে জানতে পারেন রাজনীতি করার কারণে র্যাবের এক বড় কর্মকর্তা তার ছেলেকে তুলে নিয়ে গিয়ে হত্যা করেছে। এ সময় তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং ছেলের হত্যার ন্যায়বিচার দাবি করেন।





