অবিশ্বাস্য! কার ইশারায় বন্ধ হওয়া প্রতিষ্ঠান পেল নতুন লাইসেন্স? তোলপাড় টেলিযোগাযোগ খাতে!

নানা অনিয়ম আর বকেয়া পরিশোধ না করার অভিযোগে বন্ধ হয়ে যাওয়া বিতর্কিত ব্যবসায়ী এস আলমের প্রতিষ্ঠান ফার্স্ট কমিউনিকেশনস লিমিটেড (ফার্স্টকম বিডি) ফের বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার অনুমোদন পেয়েছে। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) কর্তৃক এই নতুন অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যা টেলিযোগাযোগ খাতে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি করেছে।
বিটিআরসি ২০২৪ সালের ৩ ডিসেম্বর ফার্স্টকম বিডির উপর ১০০ শতাংশ সেবা বন্ধের আদেশ আরোপ করেছিল। প্রতিষ্ঠানটির কাছে আইজিডব্লিউ অপারেটস ফোরাম (আইওএস) অপারেটদের প্রায় দুই লাখ ২২ হাজার ৫৭২ মার্কিন ডলার এবং বিটিআরসির কাছে প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকা বকেয়া ছিল। এমনকি, প্রতিষ্ঠানটি আইওএস অপারেটরদের কোনো দায় পরিশোধ না করেই শুধু বিটিআরসির পাওনা ৫০ শতাংশ পরিশোধের ভিত্তিতে এই সুবিধা পেয়েছে।
এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিটিআরসি নিজেই একটি নির্দেশনায় বলেছিল যে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সব বকেয়া পরিশোধ না করলে নতুন ‘টপোলজিতে’ অংশগ্রহণ সম্ভব হবে না। কিন্তু আলোচ্য প্রতিষ্ঠানকে সে সুবিধা দিয়ে বিটিআরসি যেন নিজেই নিজের নিয়ম লঙ্ঘন করেছে।
১৬ মার্চ, চলতি বছরে, ফার্স্টকম বিডিকে পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক কার্যক্রম চালুর অনুমোদন দেয় বিটিআরসি। কিন্তু আইওএস অপারেটরদের বকেয়া, বিভিন্ন পক্ষের আপত্তি এবং গুরুতর বিতর্ককে উপেক্ষা করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে অনেক নিয়ম মেনে চলা প্রতিষ্ঠান বর্তমানে টিকে থাকতে হিমশিম খাচ্ছে।
আরও প্রশ্ন উঠেছে যখন দুদক-এর আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত এস আলম গ্রুপের কিছু অস্থাবর সম্পদ জব্দের নির্দেশ দেয়, যার মাধ্যমে ফার্স্টকম বিডির ৫৮ শতাংশ শেয়ার নিয়ন্ত্রিত। এমন অবস্থায় সম্পদ জব্দের আওতায় থাকা মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানকে কার্যক্রম চালুর অনুমোদন কতটা আইনসংগত, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বিটিআরসির চেয়ারম্যান এবং কমিশনারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। এই ঘটনায় টেলিযোগাযোগ খাতের নিরপেক্ষতা ও আস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।





