তারেক রহমানের ১ কোটি কর্মসংস্থান! স্বপ্ন পূরণে বড় বাধা কোথায়?

বিএনপি সরকার কি পারবে তাদের দেওয়া ১ কোটি কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে? নানা উদ্যোগ নিলেও, এই বিশাল কর্মযজ্ঞ বাস্তবায়নে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে দলটি। সরকারের প্রথম ১৮ মাসের পরিকল্পনা অনুযায়ী, কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে নয়টি প্রধান খাতকে। শিল্প, কৃষি, তথ্যপ্রযুক্তি, এসএমই, বিদেশে কর্মসংস্থান, জ্বালানি, খুচরা ব্যবসা, সুনীল কর্মসংস্থান ও অপ্রতিষ্ঠিত খাতে প্রায় ১ কোটি ১৩ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এই পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে শিল্প খাতে ২১ লাখ, কৃষি ও বিদেশে কর্মসংস্থানে ২০ লাখ করে, তথ্যপ্রযুক্তিতে ১০ লাখ, এসএমই-তে ৩ লাখ, জ্বালানিতে ৩ লাখ, খুচরা ব্যবসায় ১১ লাখ, সুনীল কর্মসংস্থানে ১০ লাখ এবং অপ্রতিষ্ঠিত খাতে ২০ লাখ কর্মসংস্থান। এছাড়া, স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ, বৃক্ষরোপণ এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা থেকেও কর্মসংস্থান তৈরির আশা করছে সরকার।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এত বিপুল সংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা বিএনপির জন্য এক বিরাট চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ বিশ্ব অর্থনীতিতে যে প্রভাব ফেলেছে, তা এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নকে আরও কঠিন করে তুলেছে। ব্যাংক খাতে সমস্যা, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে অনিশ্চয়তাও বড় বাধা।
চাকরি বিষয়ক ওয়েবসাইট বিডিজবসের প্রধান নির্বাহী ফাহিম মাশরুর মনে করেন, ‘এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা প্রয়োজন, কিন্তু এর জন্য যে কর্মপরিকল্পনা দরকার, তা ইশতেহারে সেভাবে দেখা যায়নি। এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন আগামী দুই-তিন বছরেও প্রায় অসম্ভব।’ তিনি আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের বাজার সীমিত হয়ে আসায় নতুন বাজারের সন্ধান ও সে অনুযায়ী নীতিমালা প্রণয়ন জরুরি, যেখানে সরকারের সক্ষমতার অভাব রয়েছে।
অন্যদিকে, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ড. দিলারা চৌধুরী এটিকে একটি উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন, তবে এর বাস্তবায়নের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তার মতে, নির্দিষ্ট নীতি ও বিনিয়োগের মাধ্যমে কর্মসংস্থান তৈরির সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা না থাকায় এটি বিশ্বাসযোগ্য মনে হচ্ছে না।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই প্রতিশ্রুতি পূরণে বিএনপি সরকারকে কার্যকর পরিকল্পনা, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি এবং দক্ষ জনশক্তি তৈরির ওপর জোর দিতে হবে। অন্যথায়, ঘোষিত লক্ষ্য অর্জন কঠিন হবে।





