বিএনপি

যুবদল নেতা কিবরিয়া হত্যার রহস্য ফাঁস! কারা, কেন মারল? জানলে চমকে উঠবেন

রাজধানীর পল্লবীতে প্রকাশ্যে যুবদল নেতা গোলাম কিবরিয়াকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। কিলিং মিশনে সরাসরি অংশ নেওয়া দুই পেশাদার শুটারকে গ্রেপ্তারের পর এই রহস্য উন্মোচিত হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মো. রাশেদ ওরফে লোপন এবং জাহাঙ্গীর হোসেন ওরফে কাল্লু।

র‌্যাব-৪ সূত্রে জানা গেছে, রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তার এবং মিরপুর এলাকার অপরাধ সাম্রাজ্যের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতেই এই সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। গত ১৭ নভেম্বর মিরপুর-১২ নম্বরের ‘বিক্রমপুর স্যানিটারি ও হার্ডওয়্যার’ দোকানে বসে থাকার সময় হেলমেট পরা একদল সন্ত্রাসী গোলাম কিবরিয়াকে কাছ থেকে গুলি করে। মৃত্যু নিশ্চিত করে পালানোর সময় সন্ত্রাসীরা সাধারণ মানুষের ওপরও এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে, এতে একজন রিকশাচালক গুরুতর আহত হন।

গ্রেপ্তারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী মিরপুরের কুখ্যাত শীর্ষ সন্ত্রাসী মশিউর রহমান ওরফে মশি। কিবরিয়া ঝুট ব্যবসা, ডেভেলপার কোম্পানির হাউজিং প্রজেক্ট এবং ফুটপাত থেকে চাঁদাবাজির পথে মশি’র জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। এই বাধা দূর করতেই মশি পেশাদার কিলার বাহিনীকে বড় অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে কিবরিয়াকে হত্যার দায়িত্ব দেয়। কিলিং মিশনে মোট ৬ থেকে ৭ জন অংশ নিয়েছিল বলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিশ্চিত করেছে।

হত্যাকাণ্ডের পর শুটার লোপন ও কাল্লু দেশ ছেড়ে পালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব তাদের দেশত্যাগের চূড়ান্ত মুহূর্তের আগেই গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। তাদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি বিদেশি রিভলবার ও তিন রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।

এর আগে এই মামলার এজাহারনামীয় আরও দুই আসামি ‘পাতা সোহেল’ ও ‘বুকপোড়া সুজনকেও’ গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। গ্রেপ্তারকৃত লোপন ও কাল্লু এলাকার দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত এবং তাদের বিরুদ্ধে হত্যা, চাঁদাবাজি ও মাদক কারবারের একাধিক মামলা রয়েছে।

এই বিভাগের আরও

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button