ছাত্রশিবিরে নতুন কমিটি: নেতৃত্বে ছাত্রসংসদের ভিপি-জিএসরা

ইসলামী ছাত্রশিবির তাদের ২০২৬ সেশনের জন্য নতুন কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদ ও সেক্রেটারিয়েট গঠন করেছে। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর আল ফালাহ মিলনায়তনে কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের প্রথম সাধারণ সভায় এই কমিটি গঠন করা হয়। এই নতুন কমিটিতে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের প্রতিনিধিরা গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পেয়েছেন, যা দেশের ছাত্র রাজনীতিতে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
নবগঠিত কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)-এর সাবেক ভিপি সাদিক কায়েমকে আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক এবং ডাকসু’র সাবেক জিএস এসএম ফরহাদকে প্রচার সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে। এছাড়া, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (রাকসু)-এর সাবেক ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদকে সমাজসেবা সম্পাদক এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (জকসু)-এর প্রতিনিধি রিয়াজুল ইসলামকে প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সম্পাদক করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের সদস্য হিসেবে থাকছেন ইব্রাহিম হোসেন রনি।
সংগঠনের সংবিধান অনুযায়ী, সদস্যদের প্রত্যক্ষ ভোটে ৪৭ জন কার্যকরী পরিষদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরে কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম নির্বাচিত সদস্যদের সঙ্গে পরামর্শ করে আরও ১৫ জনকে মনোনয়ন দেন। পরবর্তীতে কার্যকরী পরিষদের পরামর্শক্রমে কেন্দ্রীয় সেক্রেটারিয়েট গঠন করা হয়।
অধিবেশনের উদ্বোধন করেন সংগঠনের ১২৩তম শহীদ রেজবুল হক প্লাবনের পিতা মো. আজাদুল ইসলাম। কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহর সঞ্চালনায় জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সংগঠনের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতিরাও বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশ নেন।
নূরুল ইসলাম কার্যকরী পরিষদের সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, সংগঠনের সর্বস্তরে ইসলামী নীতির অনুসরণ নিশ্চিত করা, সংবিধান অনুযায়ী কর্মসূচি বাস্তবায়নের তত্ত্বাবধান করা এবং ত্রুটি চিহ্নিত করে তা সংশোধনে ভূমিকা রাখা তাদের দায়িত্ব। তিনি আগামীর বহুমুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কার্যকরী পরিষদকে অগ্রণী ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি ছাত্র জনশক্তির নৈতিক মানোন্নয়ন, আদর্শিক দৃঢ়তা, চারিত্রিক শুদ্ধতা, রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দেশ ও জাতির কল্যাণে দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এই নতুন কমিটি গঠনের মাধ্যমে ইসলামী ছাত্রশিবির তাদের সাংগঠনিক কার্যক্রমকে নতুন গতি দিতে চাইছে। সভাপতি নূরুল ইসলামের বক্তব্যে আগামীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং ছাত্র জনশক্তির মধ্যে নৈতিকতা, আদর্শ ও রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে, যা ভবিষ্যৎ ছাত্র রাজনীতিতে একটি নির্দিষ্ট প্রভাব ফেলবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছ





