রাজনৈতিক ও মিডিয়ার জালে ফাহিম? ঘনিষ্ঠ বন্ধুর কড়া হুঁশিয়ারি!

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তারিকুজ্জামান রাজিব নামের একজন তার ফেসবুক পেজে ফাহিম নামের এক তরুণকে উদ্দেশ্য করে একটি দীর্ঘ স্ট্যাটাস দিয়েছেন। ওই স্ট্যাটাসে তিনি ফাহিমের বর্তমান কর্মকাণ্ড, বিশেষ করে রাজনৈতিক ও মিডিয়া সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে গভীর উদ্বেগ ও সতর্কবার্তা দিয়েছেন। রাজিবের এই খোলামেলা স্ট্যাটাসটি সামাজিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
রাজিব তার স্ট্যাটাসে ফাহিমের সঙ্গে তার পুরনো সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে গভীর আবেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, ফাহিম তার কাছে আপনজনের মতোই ছিল এবং বিভিন্ন সময়ে তার পাশে দাঁড়িয়েছে। এমনকি ফাহিম মালয়েশিয়া থাকাকালীন তার যাবতীয় খরচও রাজিব বহন করেছেন। এত কিছুর পরও ফাহিমের বর্তমান পথচলায় তিনি বিস্ময় ও কষ্ট প্রকাশ করেছেন।
রাজিব সতর্ক করে বলেন যে, রাজনীতি ও মিডিয়ার জগত সহজ নয়। এখানে হাসিমুখের আড়ালে অনেক হিসাব থাকে এবং মানুষের আশ্বাসে ভরসা করে দেশে ফিরে নিজের বিপদ ডেকে আনার ঝুঁকি থাকে। তিনি ফাহিমকে তার আশপাশের মানুষজনের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে গভীরভাবে ভাবতে বলেছেন, কারণ স্বার্থের জন্য মানুষ দ্রুত বদলে যায়; আজ পাশে থাকলেও প্রয়োজন শেষ হলে চিনতে চাইবে না।
স্ট্যাটাসে তারিকুজ্জামান রাজিব আরও কিছু গুরুতর অভিযোগ ও উদ্বেগ তুলে ধরেছেন। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, ফাহিমের মাধ্যমে হাজ্জাজকে ‘মেয়ে সাপ্লাই’ দেওয়ার কথা সালাউদ্দিন কীভাবে জানলেন এবং ফাহিমের আশেপাশে থাকা অনেকেই তাকে বিশ্বাসঘাতকতা করতে পারে। রাজিব ফাহিমকে ‘গরীবের এপ্সটাইন’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন যে, তার মিডিয়া জগতে ভালো সংযোগ থাকলেও এর ভুল ব্যবহারে তা নিজের বিপদ ডেকে আনতে পারে। তিনি এমনকি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, ভবিষ্যতে ববি কর্তৃক গ্রেপ্তার হলে ফাহিমের নাম ‘ফাহিমস ফাইল’ হিসেবে পরিচিত হতে পারে, যা তার কাঁচা কাজের ফল বলে রাজিব মনে করেন। রাজিব এও উল্লেখ করেছেন যে, ফাহিম ববির মিডিয়া টিমে পিআর-এর কাজ নিয়েছেন বলে তিনি শুনেছেন, কিন্তু কোনো ঝামেলা হলে কে তার পাশে দাঁড়াবে তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।
রাজিব ফাহিমের কথিত দ্বৈত রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও সতর্ক করেছেন—একদিকে আওয়ামী লীগের পরিচয় দেওয়া, অন্যদিকে বিএনপির ছেলেদের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে মেশা। এই ধরনের মাঝামাঝি অবস্থানকে তিনি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে আখ্যা দিয়েছেন এবং বলেছেন যে, এটি শেষ পর্যন্ত কারো জন্যই ভালো হয় না। তিনি ফাহিমকে কিছু ভালো মানুষের সাথে যোগাযোগ রাখার পরামর্শও দিয়েছেন, যেমন হাসনাত আব্দুল্লাহ এবং মোহাম্মদপুরের আসিফ ভাই, যারা সঠিক সময়ে সঠিক পরামর্শ দিতে পারেন।
রাজিব স্পষ্ট করেছেন যে, তিনি রাগ থেকে নয়, বরং ফাহিমের ভবিষ্যৎ এবং জীবন নিয়ে চিন্তিত হয়েই এই কথাগুলো বলছেন, যাতে ফাহিম অযথা নিজেকে ঝুঁকির মধ্যে না ফেলে।
তারিকুজ্জামান রাজিবের এই স্ট্যাটাস সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ফাহিমের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত জীবন কোন দিকে মোড় নেয়, তা নিয়ে এখন জনমনে নানা জল্পনা চলছে। এই ঘটনা রাজনৈতিক ও মিডিয়া সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে সম্পর্কের জটিলতা এবং সম্ভাব্য ঝুঁকির বিষয়টি আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।





