মামুনুল হকের বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা মামলা’ ও ‘হত্যার হুমকি’ নিয়ে জনমনে গভীর উদ্বেগ

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব আল্লামা মুহাম্মাদ মামুনুল হকের বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগ’ এবং ‘হত্যা প্রচেষ্টা মামলার হুমকির’ তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতিতে সংগঠনের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ এই নিন্দা জানান। তিনি শিক্ষামন্ত্রী ববি হাজ্জাজের সাম্প্রতিক বক্তব্যকে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ ও সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্রের অংশ’ বলে অভিহিত করেছেন।
মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ তাঁর বিবৃতিতে উল্লেখ করেন, ঢাকা-১৩ আসনে রিকশা প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা মামুনুল হকের প্রতি ‘বিপুল জনসমর্থন দৃশ্যমান হওয়ার পর থেকেই একটি প্রভাবশালী চক্র ফলাফল বিকৃতির নীলনকশা বাস্তবায়ন করে’। তাঁর অভিযোগ, অসংখ্য বৈধ ভোট অবৈধ ঘোষণা, ফলাফল শিটে টেম্পারিং ও ওভাররাইটিং এবং চূড়ান্ত ফলাফল পরিবর্তনের মাধ্যমে ‘প্রকাশ্য রেজাল্ট ডাকাতি’ সংঘটিত হয়েছে। একাধিক টেলিভিশন চ্যানেলে প্রায় বিশ মিনিট ধরে মাওলানা মামুনুল হককে বিজয়ী ঘোষণা করার পর হঠাৎ সংশোধিত ফলাফল প্রচার জনমনে গভীর সন্দেহ সৃষ্টি করেছে। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস নির্বাচন কমিশনে লিখিত অভিযোগ দাখিল ও ফলাফল স্থগিতের অনুরোধ জানালেও ‘তড়িঘড়ি করে গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে’ বলে বিবৃতিতে দাবি করা হয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অতীতেও আল্লামা মামুনুল হককে দমনে ‘মিথ্যা মামলা, হয়রানি ও চরিত্রহননের কৌশল’ গ্রহণ করা হয়েছিল এবং ‘আজ একই ধারার পুনরাবৃত্তির চেষ্টা দৃশ্যমান’। শিক্ষামন্ত্রী ববি হাজ্জাজের নিষ্ক্রিয়তা ও নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস জানায়, আদাবরের এমব্রয়ডারি ব্যবসায়ীরা চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে থানা ঘেরাওসহ কর্মসূচি পালন করছেন, কিন্তু এ বিষয়ে মন্ত্রীর কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেই। তাদের অভিযোগ, ‘চাঁদাবাজদের থেকে জনদৃষ্টি সরিয়ে নিতেই তিনি নতুন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছেন’। সংগঠনটি ‘ফ্যাসিবাদের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পরিচিত শেখ হাসিনার পরিবারের সঙ্গে ববি হাজ্জাজের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের’ বিষয়টিও উল্লেখ করে তা খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছে।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, ‘মিথ্যা হত্যা প্রচেষ্টা মামলার হুমকি দিয়ে কোটি কোটি তৌহিদী জনতার মুখপাত্র আল্লামা মামুনুল হকের অগ্রযাত্রা রোধ করা যাবে না’ এবং ‘জনগণের রায় বিকৃত করে সত্যকে চাপা দেওয়া যায় না’। সংগঠনটি নির্বাচন কমিশনের কাছে নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও বিচারিক মানদণ্ডে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছে। পাশাপাশি, সরকারের সংশ্লিষ্টদের প্রতি তারা সতর্ক করে বলেছে যে, ঢাকা-১৩ আসনের ফলাফল-ডাকাতি এবং ববি হাজ্জাজের অব্যাহত মিথ্যাচার অচিরেই ‘সরকার পতনের কারণ’ হতে পারে। এই অভিযোগ ও হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে জনমনে এক ধরনের দুশ্চিন্তা এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে অপেক্ষা তৈরি হয়েছে।





