মুজিববাদের শিকড় উপড়ে ফেলা হবে

জাতীয় প্রেসক্লাবকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। ‘জুলাই রেভল্যুশনারি জার্নালিস্টস’ অ্যালায়েন্স (জেআরজেএ) এক বিবৃতিতে ‘মুজিববাদের শিকড় উপড়ে ফেলার’ মন্তব্য করেছে, যা দেশের সাংবাদিক সমাজ ও রাজনৈতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। শনিবার সংগঠনটির দপ্তর সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এই মন্তব্য করা হয়।
বিবৃতিতে জেআরজেএ অভিযোগ করেছে, একুশে ফেব্রুয়ারির মহান শহীদ দিবসে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) এবং ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) ‘মুজিববাদী’ স্লোগান দিয়ে জাতীয় প্রেসক্লাব দখলের চেষ্টা করেছে। এই ঘটনাকে ‘সাংবাদিক পরিচয়ধারী’ কতিপয় দুর্বৃত্তের মাধ্যমে ‘নতুন বাংলাদেশ’কে কলঙ্কিত করার চেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করেছে সংগঠনটি। জেআরজেএ’র সাধারণ সম্পাদক ইসরাফিল ফরাজী এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
ইসরাফিল ফরাজী তার বিবৃতিতে উল্লেখ করেন, ‘২৪’র গণঅভ্যুত্থানে ৫ আগস্ট বাংলাদেশ থেকে মুজিববাদের কবর রচিত হয়েছে।’ এরপরও ‘গণহত্যাকারীরা’ জাতীয় প্রেসক্লাব দখলের উদ্দেশ্যে এই পুরোনো আদর্শকে পুনরায় ব্যবহার করতে চাইছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। ফরাজী বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে একটি গণতান্ত্রিক যাত্রা শুরু হয়েছে এবং আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনগুলো এই যাত্রাকে দুর্বলতা ভেবে দেশে আবারও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন যে, ‘জুলাইয়ের হাজারো ছাত্রজনতার রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা’ এই সরকারের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার চেষ্টা করা হলে তার জবাব দেওয়া হবে।
জেআরজেএ শহীদ মিনারেও ‘মুজিববাদী’ স্লোগান দিয়ে ফুল দেওয়ার ঘটনার নিন্দা জানায়। তারা অভিযোগ করেন, যারা প্রেসক্লাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করেছে, তাদের অধিকাংশই ‘গণহত্যা মামলার আসামি’। সংগঠনটি এসব ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং জাতীয় প্রেসক্লাবে তাদের উপর নিষেধাজ্ঞা জারির পাশাপাশি সদস্যপদ বাতিলের দাবি জানিয়েছে। তারা জাতীয়তাবাদী ও ইসলামী শক্তির ঐক্য ধরে রেখে ‘স্বৈরাচার ও খুনিদের’ প্রতিহত করার আহ্বান জানান।
এই ঘটনা দেশের সাংবাদিক সংগঠনগুলোর মধ্যে বিভেদ এবং রাজনৈতিক বিতর্কের নতুন মাত্রা যোগ করেছে। জাতীয় প্রেসক্লাব কর্তৃপক্ষের নীরবতা বা পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে আছে সংশ্লিষ্ট মহল। একই সাথে, জেআরজেএ ফ্যাসিবাদ বিরোধী যেকোনো কাজে প্রেসক্লাবের সঙ্গে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে, যা পরিস্থিতি আরও জটিল করে তোলার ইঙ্গিত দেয়।





