ইসির কড়া হুঁশিয়ারি: ‘সেলামি’ দিলেই বাতিল হবে প্রার্থীতা!

আসন্ন বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ আসনের উপনির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটারদের নগদ অর্থ বা ‘সেলামি’ বিতরণে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ঈদের উপহার বা আর্থিক প্রলোভন দেখালে তা গুরুতর আচরণবিধি লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে বলে সংস্থাটি সতর্ক করেছে।
ইসি কর্মকর্তারা বুধবার (১৮ মার্চ) জানিয়েছেন, নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী ভোটারদের কোনো ধরনের আর্থিক বা বস্তুগত প্রলোভন দেখানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। বিধিমালা অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী, রাজনৈতিক দল বা তাদের পক্ষে কেউ নির্বাচনের আগে সংশ্লিষ্ট এলাকার ভোটার, গোষ্ঠী বা কোনো প্রতিষ্ঠানে প্রকাশ্যে বা গোপনে অনুদান, চাঁদা বা উপঢৌকন দিতে বা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিতে পারবেন না। এ ক্ষেত্রে ঈদকে কেন্দ্র করে ‘সেলামি’র নামে নগদ অর্থ বিতরণও একই অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।
নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে প্রার্থীর বিরুদ্ধে ছয় মাসের কারাদণ্ড, দেড় লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে। এছাড়াও, কোনো দলের সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হলে দলকেও জরিমানার আওতায় আনা হবে। গুরুতর লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে তদন্ত সাপেক্ষে প্রার্থিতা বাতিল করার ক্ষমতাও কমিশনের রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে ইসি সচিব আখতার আহমেদ জনতা টাইমসকে বলেন, “নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলা প্রার্থীদের জন্য বাধ্যতামূলক। এর ব্যত্যয় ঘটলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” নির্বাচন কমিশনের এই কঠোর অবস্থান উপনির্বাচন দুটির স্বচ্ছতা ও সুষ্ঠুতা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
জানা গেছে, শেরপুর-৩ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মো. মাসুদুর রহমান, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আমিনুল ইসলাম, বিএনপির মো. মাহমুদুল হক রুবেল এবং বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী)-এর মো. মিজানুর রহমান। তবে, এই নিষেধাজ্ঞা মাঠ পর্যায়ে কতটা কার্যকর হয়, তা দেখতে অপেক্ষা করতে হবে আগামী ৯ এপ্রিল পর্যন্ত। ওইদিন সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।





