গণপূর্তমন্ত্রীর কঠোর বার্তা: দুর্নীতিবাজদের ঠাঁই নেই মন্ত্রণালয়ে, কী পদক্ষেপ আসছে?

গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তার মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ দপ্তরগুলোতে কোনো দুর্নীতিবাজের ঠাঁই হবে না। জনগণের করের টাকার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং প্রকল্পের গুণগত মান বজায় রেখে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার ওপর সর্বোচ্চ জোর দিয়েছেন তিনি। রবিবার সেগুনবাগিচায় মন্ত্রণালয়ের অধীন দপ্তর-সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, দায়িত্ব পালনে কোনো গাফিলতি প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। তিনি কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে আরও নির্দেশনা দেন, দায়িত্ব পালনকালে কোনো রাজনৈতিক চাপ এলে মন্ত্রণালয় তা মোকাবিলা করবে। তবে, কর্মকর্তাদের দেশের প্রচলিত আইনের মধ্যে থেকে নির্ভয়ে ও সততার সঙ্গে কাজ করতে হবে। বেআইনি কোনো বিষয়ে স্পষ্টভাবে আইন তুলে ধরে ‘না’ বলতে শেখার গুরুত্বও তিনি তুলে ধরেন।
মন্ত্রীর এই কঠোর বার্তা সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এর ফলে সরকারি অর্থের অপচয় রোধ হবে এবং প্রকল্পের মানোন্নয়ন ঘটবে, যা সাধারণ মানুষের জন্য সরাসরি সুফল বয়ে আনবে। মধ্যম ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য ঢাকায় আবাসনের বিষয় উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় তাদের জীবনমান উন্নত করা সম্ভব।
সভায় প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুরও কর্মকর্তাদের উদ্দেশে নির্ভয়ে ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, জনগণের কষ্টার্জিত ট্যাক্সের টাকা লুটপাট করার কোনো সুযোগ নেই এবং দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অব্যাহত থাকবে। মতবিনিময় সভায় গণপূর্ত অধিদপ্তর, স্থাপত্য অধিদপ্তর, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ এবং নগর উন্নয়ন অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রীর এই নির্দেশনার পর সরকারি দপ্তরে দুর্নীতি দমনে কতটা কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয় এবং এর ফলে সাধারণ মানুষ মানসম্মত সেবার সুফল পায় কিনা, সেটাই এখন দেখার বিষয়। জনগণ একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসনিক ব্যবস্থার অপেক্ষায় রয়েছে।





