বইমেলা শেষ, তবুও কেন বাড়ছে পাঠাভ্যাসের উদ্বেগ?

ভাষার মাস ও অমর একুশে বইমেলা শেষ হলেও, জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনে পাঠাভ্যাসের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বই পড়ার অভ্যাস কমে যাওয়া দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য গভীর উদ্বেগ তৈরি করছে, যা একটি জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনের পথে বড় বাধা।
জ্ঞান ও প্রজ্ঞাসমৃদ্ধ জাতি গঠনে বই পড়ার কোনো বিকল্প নেই। অথচ আধুনিক সমাজে প্রযুক্তির প্রভাবে বই পড়ার প্রবণতা কমছে, যা তরুণদের মধ্যে জ্ঞানভিত্তিক কৌতূহল তৈরিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। সমাজবিজ্ঞানীরা মনে করেন, বইবিমুখ জাতি কখনো জ্ঞান-বিজ্ঞানে কাঙ্ক্ষিত উন্নতি সাধন করতে পারে না। জ্ঞান-বিজ্ঞানে উন্নত জাতিই বিশ্বে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে, যার মূলভিত্তি হলো পাঠাভ্যাস ও জ্ঞানচর্চা।
একটি জ্ঞানভিত্তিক সমাজব্যবস্থা ছাড়া কোনো জাতি স্থায়ী হতে পারে না। বই না পড়লে একটি দেশে জ্ঞানী-গুণীর সমাবেশ ঘটে না, আর গুণী ব্যক্তি ছাড়া দেশের সামগ্রিক উন্নতিও সম্ভব নয়। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে তরুণদের উদ্যোগী হয়ে পাড়ায় পাড়ায় লাইব্রেরি গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হচ্ছে। সাধারণ জনগণকে পাঠাভ্যাসে উদ্বুদ্ধ করতে সম্মিলিত প্রচেষ্টা জরুরি।
বিশ্বের বরেণ্য ব্যক্তিরাও যুগে যুগে বইয়ের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। কবি ওমর খৈয়ম বলেছেন, “একখানা বই সবসময় অনন্ত-যৌবনা—যদি তেমন বই হয়।” বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বইকে অতীত ও ভবিষ্যতের মধ্যে সাঁকো হিসেবে দেখেছেন। সৈয়দ মুজতবা আলীর মতে, “বই কিনে কেউ তো কখনো দেউলে হয়নি।” আল্লামা শেখ সা’দী জ্ঞানের জন্য মোমের মতো গলে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন, কারণ জ্ঞান ছাড়া মানুষ প্রকৃত সত্যকে চিনতে পারে না। আধুনিক চিন্তাবিদরাও মনে করেন, বই পড়েই মানুষ তার পরিপূর্ণ জীবনের ইঙ্গিত ও সংকেত লাভ করতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দেশ ও জাতির উন্নয়নে এবং বুদ্ধিভিত্তিক চেতনাসমৃদ্ধ সমাজ গঠনে বইয়ের বিকল্প নেই। তরুণ প্রজন্মকে বই পড়ার প্রতি আগ্রহী করে তুলতে এবং পাড়ায় পাড়ায় লাইব্রেরি গড়ে তোলার সম্মিলিত প্রচেষ্টা এখন সময়ের দাবি। সমাজের অবক্ষয় রোধ করে জ্ঞানালোক প্রজ্বলিত করতে বইকে নিত্যসঙ্গী করার এই আহ্বান ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।





