সীতাকুণ্ড উপকূলে অবৈধ বালু উত্তোলন: সাঁড়াশি অভিযানে আটক ১৩

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপকূলে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান পরিচালনা করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও সীতাকুণ্ড উপজেলা প্রশাসন। গত বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টা থেকে প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টাব্যাপী এই যৌথ অভিযানে ১৩ জনকে আটক করা হয়েছে এবং ১০টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
এই অভিযানে তিনটি স্পিডবোট ব্যবহার করে কুমিরা সমুদ্র উপকূল থেকে সন্দ্বীপ চ্যানেল হয়ে সৈয়দপুর এলাকা পর্যন্ত বিস্তৃত জলসীমায় তল্লাশি চালানো হয়। অবৈধ বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত ৯টি ড্রেজারের ম্যানেজার ও চালকসহ মোট ১৩ জনকে এ সময় আটক করা হয়। অভিযানের সময় কিছু ড্রেজার পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও, স্থানীয় জেলেরা সমুদ্র উপকূল থেকে একটি ড্রেজারের ৪ কর্মচারীকে আটক করে সীতাকুণ্ড থানা-পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। এই ঘটনা অবৈধ বালু উত্তোলনে স্থানীয়দের অসন্তোষ এবং পরিবেশ রক্ষায় তাদের সচেতনতার ইঙ্গিত দেয়।
সীতাকুণ্ড উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মামুন জনতা টাইমসকে জানান, বন্দর কর্তৃপক্ষের অনুমোদন অনুযায়ী সীতাকুণ্ড সমুদ্র উপকূলের নির্দিষ্ট পাঁচটি স্থান থেকে বালু উত্তোলনের অনুমতি রয়েছে। কিন্তু আটককৃত ব্যক্তিরা অনুমোদিত এলাকার বাইরে গিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছিলেন, যা পরিবেশের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
বন্দর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাদিয়া আফরিন কচি নিশ্চিত করেন যে, আটককৃত ১৩ জনকে বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। একই সাথে অবৈধ বালু উত্তোলনের দায়ে যে ১০টি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়েছে, সেগুলো হলো— এম আর ট্রেডার্স (৬০ হাজার টাকা), মিয়াখান এন্টারপ্রাইজ (৫০ হাজার টাকা), ইয়া আল্লাহ ড্রেজার (৫০ হাজার টাকা), মেসার্স জুনায়েদ এন্টারপ্রাইজ (ড্রেজার) (৫০ হাজার টাকা), এমবি রাকিব-১ বাল্কহেড (২০ হাজার টাকা), এমবি আফরামুন্সী বাল্কহেড (২০ হাজার টাকা), এমবি ফাইজা অ্যান্ড মাইশা ট্রান্সপোর্ট বাল্কহেড (২০ হাজার টাকা), একরাম জুনায়েদ বাল্কহেড (২০ হাজার টাকা), এমবি মক্কা-মদিনা বাল্কহেড (২০ হাজার টাকা) এবং ফারিয়া ঈসা বাল্কহেড (২০ হাজার টাকা)।
প্রশাসন জানিয়েছে, উপকূলীয় পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে এই ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে। এই পদক্ষেপ উপকূলের সাধারণ মানুষ ও জেলেদের জীবনমান রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।





