প্রধানমন্ত্রীর আদেশে যা ঘটল টুলি বেগমের সাথে! বদলে গেল জীবনের গল্প

দীর্ঘদিন ধরে দারিদ্র্য ও জীবনের কঠিন বাস্তবতার সঙ্গে লড়াই করে আসা রাজশাহীর অটোরিকশাচালক টুলি বেগমের জীবনে স্বস্তির ছোঁয়া লেগেছে। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহায়তায় তিনি এখন নিজস্ব একটি অটোরিকশা ও আর্থিক অনুদান পেয়েছেন। এতে তার জীবনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে।
জানা গেছে, পবা উপজেলার মালপাড়া গ্রামের বাসিন্দা টুলি বেগম অন্যের অটোরিকশা ভাড়া নিয়ে চালিয়ে কোনোমতে সংসার চালাচ্ছিলেন। অসুস্থ মেয়ে ও নাতির পড়াশোনা, খাবার ও বাসার ভাড়ার সব খরচ তার একার উপর। সন্তানদের কাছ থেকে তেমন খোঁজখবর না থাকায় জীবিকার তাগিদে তিনি এই পেশা বেছে নিয়েছিলেন।
সম্প্রতি টুলি বেগমের এই সংগ্রামী জীবনের কথা প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে। তার নির্দেশনায় ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর একটি প্রতিনিধি দল গত শুক্রবার টুলি বেগমের বাড়িতে গিয়ে একটি নতুন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করে। প্রতিনিধি দলে ছিলেন নরসিংদীর রায়পুরার সংসদ সদস্য ও সংগঠনটির উপদেষ্টা ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুল এবং রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন।
নতুন অটোরিকশা ও সহায়তা পেয়ে আবেগাপ্লুত টুলি বেগম প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্য দোয়া করেছেন। তিনি বলেন, এতদিন ভাড়া চালিয়ে যা আয় হতো, তা দিয়ে কষ্টে সংসার চলত। এখন নিজের অটোরিকশা থাকায় কিছুটা স্বস্তি মিলবে বলে আশা করছেন।
ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুল বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার কারণেই তারা টুলি বেগমের পাশে দাঁড়িয়েছেন।
চার বছর ধরে শহরের রাস্তায় অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন টুলি বেগম। নারী চালক হওয়ায় তাকে অনেক সামাজিক প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হয়। অনেক যাত্রী নারী চালকের গাড়িতে উঠতে চান না, ফলে তার প্রতিদিনের আয় অনিশ্চিত থাকে। এত কষ্টের মাঝেও তিনি অবসর সময়ে নিজের জীবন সংগ্রাম নিয়ে গান লেখেন।
টুলি বেগমের পারিবারিক জীবনও বেশ করুণ। প্রথম স্বামী তাকে ছেড়ে চলে যান; দ্বিতীয় সংসারও টেকেনি। তিন সন্তানের মধ্যে একজন মারা গেছেন। জীবিতদের মধ্যে একজন অসুস্থ মেয়ে তার সঙ্গে থাকেন। অন্য ছেলে তাকে মা হিসেবে স্বীকার করেন না।





