জাতীয়

বিন্তি হত্যা: প্রেম নাকি উত্ত্যক্ত, তদন্তে উঠে আসলো ভয়ংকর তথ্য

রাজধানীর হাজারীবাগে স্কুলছাত্রী শাহরিয়ার শারমিন বিন্তি হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের কারণ নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, অন্য এক কিশোরের সঙ্গে বিন্তির সম্পর্কের সন্দেহে ক্ষিপ্ত হয়েই ঘাতক সিয়াম এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। এই তথ্যের পাশাপাশি নিহতের পরিবারের অভিযোগ তদন্তে ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে।

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) ডিএমপির রমনা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান। তিনি বলেন, মাত্র সাত-আট ঘণ্টার ব্যবধানে কলাবাগান থেকে গ্রেফতার হওয়া সিয়াম পুলিশের কাছে তার অপরাধের পুরো বর্ণনা দিয়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে ঘটনার রাতের ভয়াবহ মুহূর্তের চিত্র। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ জানিয়েছে, বুধবার রাতে হাজারীবাগের একটি গলিতে বিন্তি ও সিয়ামকে দীর্ঘক্ষণ একত্রে হাঁটতে দেখা যায়। শুরুতে তাদের মধ্যে স্বাভাবিক কথা চললেও একপর্যায়ে সিয়াম তার মোবাইলে থাকা কিছু ছবি বিন্তিকে দেখিয়ে অন্য এক ছেলের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে জেরা শুরু করে। বিন্তি বিষয়টি অস্বীকার করলে তাদের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়। তর্কের একপর্যায়ে সিয়াম নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পকেট থেকে ছুরি বের করে বিন্তিকে একের পর এক আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করে পালিয়ে যায়।

গ্রেফতারের সময় সিয়ামের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা ছুরি এবং সে সময়ে পরিহিত রক্তলাঞ্ছিত গেঞ্জি উদ্ধার করেছে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে সিয়াম জানিয়েছে, বিন্তি ইদানীং তাকে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করছিল, যা তার ভেতরে প্রচণ্ড প্রতিহিংসার জন্ম দেয়। সিয়ামের ভাষ্যমতে, বিন্তি তাকে ছেড়ে অন্য একজনের সাথে সম্পর্কে জড়িয়েছে, যা সে সহ্য করতে পারেনি, তাই তাকে শেষ করে দেওয়ার পরিকল্পনা করে।

তবে নিহতের পরিবারের দাবি এবং পুলিশের প্রাপ্ত তথ্যের মধ্যে কিছুটা ভিন্নতা পাওয়া গেছে। বিন্তির স্বজনদের অভিযোগ, বিন্তির কোনো প্রেমিক ছিল না বরং সিয়াম দীর্ঘদিন ধরে তাকে উত্ত্যক্ত ও হয়রানি করে আসছিল। প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় সে বিন্তির ওপর ক্ষিপ্ত ছিল। অন্যদিকে, পুলিশ বলছে সিসিটিভি ফুটেজে তাদের দীর্ঘ কথোপকথন এবং স্বতঃস্ফূর্ত চলাফেরা প্রমাণ করে যে তাদের মধ্যে আগে থেকেই জানাশোনা বা ঘনিষ্ঠতা ছিল। এই দ্বন্দ্বের অবসান ঘটাতে পুলিশ সিয়ামের মোবাইল ফোন ফরেনসিক ল্যাবে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

উল্লেখ্য, হাজারীবাগের হায়দার হোটেল গলিতে বুধবার রাতে বিন্তিকে কুপিয়ে জখম করে সিয়াম। গুরুতর আহতাবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাত পৌনে ১১টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত উদ্দেশ্য এবং সম্পর্কজনিত জটিলতা উন্মোচনে পুলিশের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং ফরেনসিক প্রতিবেদনের দিকে তাকিয়ে আছে জনতা।

এই বিভাগের আরও

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button