কুষ্টিয়ার এমপি হামজার বার্তা: “উপরওয়ালা এখন আমি”, কিছু হলে আমাকে জানাবেন

কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা সম্প্রতি এক মন্তব্যে বলেছেন, “উপরওয়ালা কুষ্টিয়ায় কেউ নেই। উপরওয়ালা এখন আমি। সুতরাং কিছু হলেই আমাকে জানাবেন।” কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল (কুমেক) পূর্ণাঙ্গভাবে পুনরায় চালুর বিষয়ে অগ্রগতির কথা জানাতে গিয়ে তিনি এই কথা বলেন।
এমপি হামজা জানান, কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল কুষ্টিয়াবাসীর আবেগের জায়গা। এটিকে পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর লক্ষ্যে আজকের সভায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং খুব শিগগিরই এ বিষয়ে একটি সুখবর আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। কুষ্টিয়া ও আশপাশের জেলার মানুষের উন্নত স্বাস্থ্যসেবার কথা মাথায় রেখে সাতটি বিষয়ে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে দুটি বিষয়ে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত হয়েছে এবং বাকিগুলো প্রক্রিয়াধীন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, তার প্রথম ১০০ দিনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে সরকারি অফিস-আদালতগুলোকে জনবান্ধব করার চেষ্টা চলছে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, পুলিশ সুপারের কার্যালয়, উপজেলা নির্বাহী অফিস ও থানায় সাধারণ মানুষ যেন কোনো ভয় না পায়, সেই পরিবেশ তৈরি করাই তার লক্ষ্য। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সাধারণ মানুষের সেবা প্রাপ্তি সহজ হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, সকাল ১০টা থেকেই সেবা শুরু হয় এবং তা সক্ষমতা অনুযায়ী অব্যাহত থাকে।
হাসপাতাল ঘিরে দালালচক্র, স্পিড মানি ও কালো হাতের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার কথা জানিয়েছেন এমপি হামজা। তিনি এ বিষয়ে কিছু লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন এবং সংশ্লিষ্টদের ব্যবস্থা নিতে সময় বেঁধে দিয়েছেন। কর্তৃপক্ষ ভুল স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশ করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। বিভিন্ন মহল থেকে চাপ ও “ঢিলা করার” প্রস্তাব এলেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং জনগণের স্বার্থে নেওয়া শপথের বাইরে যাবেন না বলেও দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
অতীতের ভুল নয়, বরং সামনে কী করা হবে, সেটাই জনগণকে দেখানো হবে বলে এমপি আমির হামজা আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এই সময় জেলা প্রশাসক ইকবাল হোসেন, কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের প্রিন্সিপাল ডা. শহিদুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তার এই মন্তব্যের পর স্থানীয়দের মধ্যে এই পদক্ষেপগুলোর বাস্তবায়ন এবং এর ভবিষ্যৎ প্রভাব নিয়ে আগ্রহ ও কৌতূহল দেখা দিয়েছে।





