পেট্রোল-অকটেন দেশেও হয়, কিন্তু কেন পান না সাধারণ মানুষ? রহস্য জানলে চমকে যাবেন!

দেশের গ্যাসক্ষেত্র থেকে পাওয়া কনডেনসেট প্রক্রিয়াজাত করে বাংলাদেশে পেট্রোল ও অকটেনের একটি বড় অংশ উৎপাদন হওয়া সত্ত্বেও জ্বালানি তেলের সংকটে নাকাল সাধারণ মানুষ। তেল ফুরিয়ে যাওয়ায় অনেক পাম্পে দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে, আবার কিছু পাম্প বন্ধও হয়ে যাচ্ছে। চালকরা ৩০ বছরের কর্মজীবনে এমন সংকট দেখেননি বলে জানিয়েছেন।
সারাদেশে, বিশেষ করে ঢাকা ও অন্যান্য বড় শহরগুলোতে পেট্রোল ও অকটেনের চাহিদা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। যদিও ডিজেলের চাহিদা সবচেয়ে বেশি, কিন্তু বেশিরভাগ পাম্পে ডিজেল থাকলেও পেট্রোল ও অকটেনের টান পড়েছে।
উৎপাদন সক্ষমতা ও মজুদ থাকা সত্ত্বেও এমন সংকট কেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। দেশে বছরে চার লাখ ৬২ হাজার টন পেট্রোল ও চার লাখ ১৫ হাজার টন অকটেনের চাহিদা রয়েছে। নিজস্ব উৎপাদন এবং ইস্টার্ন রিফাইনারিতে পরিশোধনের মাধ্যমে পেট্রোলের আমদানি প্রায় প্রয়োজন হয় না। ২০২৪-২৫ অর্থবছরেও দেশীয় কনডেনসেট থেকে চাহিদার প্রায় অর্ধেক পেট্রোল এবং চার ভাগের একভাগ অকটেন উৎপাদন হয়েছে।
তবে, বিশেষজ্ঞদের মতে, কনডেনসেটের উৎপাদন কমে যাওয়ায় এবং অতিরিক্ত চাহিদা ও প্যানিক পারচেজের কারণেই এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। অতিরিক্ত কেনা এবং মজুত করার প্রবণতা কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে এবং চাহিদা পূরণে তেল আমদানি করা হচ্ছে। মন্ত্রী জানিয়েছেন, ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দামে প্রভাব পড়লেও মে মাস পর্যন্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। কালোবাজারি ও অবৈধ মজুদ রোধে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং বিভিন্ন জেলায় বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, আমদানি নির্ভর জ্বালানির ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে সরবরাহ নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে।





