রাতারাতি সাংবাদিক! কার্ড পেলেই যা করছেন, জানলে চমকে যাবেন

মফস্বল বা তৃণমূল পর্যায়ের সাংবাদিকতা একসময় সমাজের নির্ভরতার অন্যতম প্রধান জায়গা ছিল। গ্রামের ভাঙা রাস্তা, নদীভাঙন, দুর্নীতি, প্রশাসনিক অনিয়ম কিংবা সাধারণ মানুষের নানা ধরনের দুর্ভোগ—এসব বিষয় প্রথম আলোচনায় আসত মফস্বল সাংবাদিকদের হাত ধরেই। স্থানীয় পর্যায়ে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো দেশের মূলধারার গণমাধ্যমে পৌঁছাতে মফস্বল সাংবাদিকদের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে এই পেশাটি আজ নানা সংকট, বিতর্ক ও নেতিবাচক ধারণার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে। ফলে একদিকে যেমন প্রকৃত সাংবাদিকরা বিব্রত হচ্ছেন, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের মাঝেও সাংবাদিকতা নিয়ে আস্থার সংকট তৈরি হচ্ছে।
বর্তমানে মফস্বল সাংবাদিকতার একটি বড় সমস্যা হলো তথাকথিত কার্ডধারী সাংবাদিকদের দৌরাত্ম্য। হাতে স্মার্টফোন, গলায় ‘সাংবাদিক’ পরিচয়পত্র এবং প্রভাবশালী ভাব নিয়ে ঘুরলেও এদের অনেকেরই নেই ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা, সাংবাদিকতার মৌলিক ধারণা বা পেশাগত নৈতিকতা। এই পরিচয়পত্রের আড়ালেই একটি শ্রেণি স্থানীয় পর্যায়ে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে। পাড়া-মহল্লা, বাজার, ইউনিয়ন পরিষদ, থানা বা সরকারি অফিসে এদের উপস্থিতি প্রায়ই দেখা যায়। কোনো জমিবিরোধ বা ছোটখাটো ঘটনাকে কেন্দ্র করেও দ্রুত হাজির হয়ে যায় তারা। কখনো সমস্যা সমাধানের নামে, আবার কখনো সংবাদ প্রকাশের ভয় দেখিয়ে শুরু হয় দেনদরবার। এর ফলে সাধারণ মানুষ, জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তারাও বিব্রতকর পরিস্থিতির শিকার হচ্ছেন।
অল্প টাকার বিনিময়ে নামসর্বস্ব অনলাইন পোর্টাল বা অচেনা সংবাদমাধ্যম থেকে আইডি কার্ড সংগ্রহ করা এখন অত্যন্ত সহজ। কয়েকশ বা হাজার টাকার বিনিময়ে রাতারাতি অনেকেই ‘সাংবাদিক’ হয়ে যাচ্ছেন। এতে সাংবাদিকতার মতো মর্যাদাপূর্ণ পেশার সুনাম ক্ষুণ্ণ হচ্ছে এবং আসল সাংবাদিকদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠছে।





