জাতীয়

নেতাদের পুনর্বাসন নাকি উন্নয়ন? জেলা পরিষদের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন

স্থানীয় সরকারের জেলা পরিষদ নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ক যেন শেষ হওয়ার নয়। শুধু উন্নয়ন নয়, এটিকে নেতাদের পুনর্বাসনের ক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে এমন অভিযোগও উঠেছে। সম্প্রতি বিভিন্ন জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগের ঘটনা এই প্রশ্নগুলোকে আরও জোরালো করেছে।

জানা গেছে, প্রায় দেড়শ বছর আগে ব্রিটিশ শাসনামলে ভাইসরয় লর্ড রিপনের ‘Local Self Government Resolution 1882’-এর মাধ্যমে জেলা বোর্ডের যাত্রা শুরু হয়। এরপর পাকিস্তানি শাসনামলে এটি জেলা কাউন্সিলে এবং স্বাধীনতার পর আবার জেলা বোর্ডে রূপান্তরিত হয়। বিভিন্ন সময়ে এর নাম ও কার্যকারিতা পরিবর্তন হয়েছে, তবে মূল লক্ষ্য স্থানীয় পর্যায়ে উন্নয়ন সবসময়ই আলোচনায় ছিল।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, ২০১৬ সালের জেলা পরিষদ নির্বাচন ছিল টাকার খেলা এবং জোর-জবরদস্তির মহোৎসব। নির্বাচনের আগে থেকেই জনপ্রতিনিধি কেনাবেচা ও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ সরকার জেলা পরিষদ আইন ২০০০ পাস করে এবং ২০১১ সালে জেলা পরিষদ প্রশাসক নিয়োগ দেয়। এরপর ২০১৬ ও ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বেশিরভাগ চেয়ারম্যান বিনা ভোটে নির্বাচিত হন, যাদের অনেকে ক্ষমতাসীন দলের নেতা, তাদের আত্মীয় বা ঘনিষ্ঠজন।

সম্প্রতি, বিভিন্ন সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগের পর জেলা পরিষদেও প্রশাসক নিয়োগ প্রক্রিয়া প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগ ৪২ জন প্রশাসক ঘোষণা করেছে, যাদের অনেকেই জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নবঞ্চিত, দলের ত্যাগী নেতা বা শাসকের বিশ্বস্ত। এই পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে প্রশ্ন উঠেছে, এটি কি জনগণের করের টাকায় দলের নেতাদের পুনর্বাসন প্রক্রিয়া, নাকি স্থানীয় পর্যায়ে উন্নয়নের পথে একটি মাইলফলক?

লেখক মনে করেন, পৃথিবীর উন্নত দেশগুলোতে স্থানীয় সরকার রাজস্ব আদায়, উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নসহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সেখানে স্থানীয় জনপ্রশাসনও আইন অনুযায়ী জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকে। কিন্তু বাংলাদেশে জেলা পরিষদের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো আমলাতন্ত্রের হাতে জিম্মি হয়ে জনসম্পদ অপচয়ের মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে।

উপজেলা পরিষদকে ক্ষমতায়ন করে উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করলে জেলা পরিষদের প্রয়োজনীয়তা কমে যায়। এই পরিস্থিতিতে, লেখক প্রশ্ন তুলেছেন যে, গণতান্ত্রিক স্বচ্ছতা ও জনমতকে শ্রদ্ধা জানিয়ে সরকার কি স্থানীয় সরকারকে পুনর্বাসন নয়, উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করার পথে হাঁটবে?

এই বিভাগের আরও

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button