জাতীয়

ভোগ-বিলাসিতার অশুভ পরিণাম! যা ঘটলে জীবনে নেমে আসে সর্বনাশ

ভোগ-বিলাসিতা ক্ষণিকের আনন্দ দিলেও এর পরিণতি কখনো ভালো হয় না। মানব চরিত্রের লোভের মতো ক্ষতিকারক দিকটি ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজে হিংসা, বিদ্বেষ এবং কলহ-বিবাদ সৃষ্টি করে। এর ফলে মানুষের ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক ও জাতীয় জীবন দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। লোভের বশবর্তী হয়ে মানুষ অন্যায়ভাবে অপরের সম্পদ দখল, সম্মানহানি এমনকি হত্যার মতো অপরাধ করতেও দ্বিধা করে না। ইসলাম ধর্মে এই লোভকে অত্যন্ত নিন্দনীয় হিসেবে দেখা হয়েছে।

হাদিসে বর্ণিত আছে, দুটি ক্ষুধার্ত নেকড়ে বাঘ ছাগলের পালকে যতটুকু ক্ষতি করতে পারে, লালসার শিকার হওয়া লোভ তার চেয়েও বেশি ক্ষতি করে মানুষের ঈমান-ধর্মের। পক্ষান্তরে, কিছু গুণ রয়েছে যা মানুষের জন্য অত্যন্ত উপকারী। যারা সততা ও জ্ঞানের অধিকারী, তারা সমাজের জন্য নক্ষত্রের মতো। তাদের আলোয় আলোকিত হয় সবাই। তারা নীরবে কাজ করে যায়, খ্যাতি থেকে দূরে রাখে নিজেকে। তাদের রেখে যাওয়া জ্ঞান ও কর্ম থেকে দুনিয়াবাসী যুগ যুগ ধরে উপকৃত হয়। এরা নিজেদের যশের সবকিছু অন্যের জন্য রেখে যায় এবং আল্লাহ ছাড়া তাদের কাজের কোনো সাক্ষী তারা চায় না।

তাদের দুনিয়ার প্রতি আগ্রহ কম থাকে। যা পায় তাতেই সন্তুষ্ট থাকে এবং আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে। তারা সাদামাটাভাবে জীবনযাপন করে এবং নীরবে দুনিয়া থেকে বিদায় নেয়। এমন ব্যক্তিদের কথা হাদিসে বলা হয়েছে, যাদের অবস্থা হালকা এবং যারা নামাজ, ইবাদত ও আল্লাহর আনুগত্যে মনোযোগী। তারা মানুষের মাঝে অখ্যাত থাকে, কিন্তু তাদের রিজিক সীমিত হলেও তাতেই তারা ধৈর্যশীল। হাদিস অনুযায়ী, এমন ব্যক্তিরা সম্পদশালীদের চেয়ে ৪০ বছর আগে জান্নাতে প্রবেশ করবে।

আমাদের প্রিয় নবী (সা.) দরিদ্র জীবনযাপন পছন্দ করতেন এবং দরিদ্রদের ভালোবাসতেন। তিনি দোয়া করতেন যেন তাকে দরিদ্র অবস্থায় বাঁচিয়ে রাখা হয় এবং কিয়ামত দিবসে দরিদ্রদের সাথেই তার হাশর হয়। তাঁর এই দরিদ্রতা ছিল সম্পদের প্রতি অমুখাপেক্ষিতা, যা অনেক বড় রাজা-বাদশাহদেরও ছিল না। তাঁর ওফাতের সময় মাত্র সাতটি স্বর্ণমুদ্রা রেখে গিয়েছিলেন, যা তিনি গরিবদের মধ্যে বিলিয়ে দেওয়ার ওসিয়ত করেছিলেন।

এই বিভাগের আরও

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button