গৃহযুদ্ধ শুরু করা সেনাপ্রধানই হবেন মিয়ানমারের নতুন প্রেসিডেন্ট! সত্যটা জানলে চমকে যাবেন

পাঁচ বছর আগে অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থান ঘটিয়ে ক্ষমতা দখলকারী মিয়ানমারের সেনাপ্রধান জেনারেল মিন অং লাইং এবার দেশটির প্রেসিডেন্ট হচ্ছেন। ২০২১ সালের পহেলা ফেব্রুয়ারি তিনি এক বছরের মধ্যে নির্বাচন করে বেসামরিক শাসনে ফেরার প্রতিশ্রুতি দিলেও, পাঁচ বছর পর সেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। শুক্রবার নবনির্বাচিত সংসদ তাকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে বেছে নেবে। তবে এটি কেবল নামমাত্র বেসামরিক শাসন, কারণ নির্বাচিত সংসদটি মূলত সেনাপ্রধানের অনুগতদের দিয়েই গঠিত।
সেনাবাহিনীর জন্য সংরক্ষিত এক-চতুর্থাংশ আসন এবং সামরিক বাহিনীর দল ইউএসডিপি’র বিপুল বিজয়ের ফলে নির্বাচনের ফলাফল পূর্বনির্ধারিত ছিল, যাকে অনেকেই ‘অভিষেক’ হিসেবে দেখছেন। নতুন সরকারেও সামরিক কর্মকর্তাদের প্রাধান্য পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিদায়ী সেনাপ্রধান মিন অং লাইং-এর ঘনিষ্ঠ মিত্র জেনারেল ইয়ে উইন উ নতুন সেনাপ্রধান হচ্ছেন। মিন অং লাইং একটি পরামর্শদাতা পরিষদও গঠন করেছেন, যার হাতে বেসামরিক ও সামরিক সব বিষয়ে সর্বোচ্চ কর্তৃত্ব থাকবে।
অভ্যুত্থানের পর থেকে মিয়ানমার গৃহযুদ্ধ, ব্যাপক প্রাণহানি, লক্ষ লক্ষ মানুষের বাস্তুচ্যুতি এবং ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সামরিক বাহিনী হাজার হাজার মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে এবং লক্ষ লক্ষ মানুষকে বাস্তুচ্যুত করেছে। তাদের বিমান হামলায় স্কুল, বাড়িঘর ও হাসপাতাল ধ্বংস হয়েছে। চীন ও রাশিয়ার সহায়তায় জান্তা কিছু হারানো এলাকা পুনরুদ্ধার করেছে।
এই পরিস্থিতিতে, কিছু তরুণ আন্দোলনকর্মী পরিবর্তন এবং গণতন্ত্রের আশা হারিয়ে ফেলেছেন। তাদের ওপর চালানো নির্যাতন ও নিপীড়নের ঘটনাও উঠে এসেছে। মিয়ানমারের অর্থনীতিও ভয়াবহ সংকটে পড়েছে। জাতিসংঘের হিসাবে, এক কোটি ৬০ লাখেরও বেশি মানুষের সহায়তার প্রয়োজন। লাগামহীন মূল্যস্ফীতি জীবনযাত্রার মানকে ধসিয়ে দিয়েছে এবং জ্বালানি সংকট পরিস্থিতি আরও জটিল করেছে।
এই অচলাবস্থার মধ্যে, কিছু রাজনৈতিক কর্মী সমঝোতার মাধ্যমে সংকট থেকে বের হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তারা সব রাজনৈতিক বন্দির মুক্তি এবং একটি নতুন সংবিধান প্রণয়নের মাধ্যমে সেনাবাহিনীকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখার দাবি জানিয়েছেন। তবে, সামরিক শাসকরা আপাতত এই পথে হাঁটতে আগ্রহী বলে মনে হচ্ছে না।





