জাতীয়

শতকোটি টাকার রেল জমি কার ইশারায় হালাল? জানলে চমকে যাবেন!

রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের অধীনে চট্টগ্রামে শতকোটি টাকা মূল্যের জমি বিনা টেন্ডারে বরাদ্দের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো পূর্বাঞ্চল রেলওয়েতে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। অভিযোগ উঠেছে, আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি ফজলে করিম চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ রেলওয়ের বাণিজ্যিক শাখা, ভূ-সম্পত্তি দপ্তর ও নিরাপত্তা বাহিনীর কিছু সদস্যের সমন্বয়ে গঠিত একটি সিন্ডিকেটের যোগসাজশে এই অসমাপ্তি ঘটেছে।

নীতিমালা লঙ্ঘন করে একটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে এই জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। আইন অনুযায়ী, চট্টগ্রামে রেলওয়ের জমি বাণিজ্যিক ভিত্তিতে লিজ বা লাইসেন্স দিতে হলে উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান বাধ্যতামূলক। অথচ, এই প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই এসআরভি স্টেশনের চার হাজার ৫০০ বর্গফুট জায়গা ‘উৎস ট্রেডিং অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যাদের রেলওয়ের সঙ্গে কোনো প্রকার সংশ্লিষ্টতা নেই।

অভিযোগ রয়েছে, নথিপত্র যাচাই না করে, প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই এবং প্রধান প্রকৌশলী, প্রধান ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা ও মহাব্যবস্থাপকের যৌথ স্বাক্ষর ছাড়াই এই বরাদ্দ সম্পন্ন করা হয়েছে। এমনকি, নকশাও অনুমোদনহীন অবস্থায় সই করিয়ে নেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় রেলওয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং বলেছেন যে, এই ধরনের অনিয়ম রেলওয়ের বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপনায় অচলাবস্থা সৃষ্টি করছে।

এই বরাদ্দ প্রক্রিয়া অতি গোপনে এবং অস্বাভাবিক দ্রুততায় সম্পন্ন করা হয়েছে বলে জানা যায়। আবেদন জমা পড়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই তদন্ত, নকশা, বরাদ্দ এবং লাইসেন্স প্রদান—এই চারটি ধাপ শেষ করা হয়েছে, যা সাধারণ প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

এদিকে, এই বরাদ্দকে কেন্দ্র করে পূর্বাঞ্চল রেলওয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। তারা বলছেন, রেলওয়ের অভ্যন্তরীণ দুর্নীতি ও সিন্ডিকেটের আধিপত্যের কারণে প্রতিষ্ঠানের সম্পদ হুমকির মুখে পড়ছে। রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেন বলেছেন, কোনো অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না এবং ভূমি বরাদ্দে অনিয়ম হয়ে থাকলে অবশ্যই তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই বিভাগের আরও

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button