সাবেক ভূমিমন্ত্রীর যুক্তরাজ্যে ৫১৮ ফ্ল্যাট, জব্দের নির্দেশ আদালতের

আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের নামে যুক্তরাজ্যের ৫১৮টি ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্ট জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ সাব্বির ফয়েজ এই আদেশ দেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এই নির্দেশনা দিয়েছেন। আদালতের নথি অনুযায়ী, এসব সম্পদের আনুমানিক মূল্য ২৭ কোটি ১৮ লাখ ৫২ হাজার ৮৭২ ব্রিটিশ পাউন্ড।
দুদকের আবেদনে বলা হয়েছে, সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ এবং তার সহযোগী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের অভিযোগ তদন্তে একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে, যার সদস্য দুদক, সিআইডি ও এনবিআরের ৯ জন কর্মকর্তা। এই তদন্তের অংশ হিসেবে গত বছরের ২১ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের মামলার ২৩ বস্তা আলামত উদ্ধার করা হয়। এসব আলামত পরে ঢাকায় এনে পরীক্ষা ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়।
উদ্ধার করা নথিপত্রের মধ্যে বেশ কয়েকটি চুক্তি, দলিল, পেমেন্ট অর্ডার, বুকিং মানি রসিদ, বিভিন্ন চেক, ভাউচার এবং সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ ও তার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের নামে বিদেশে সম্পত্তি কেনার মূল কাগজপত্র পাওয়া যায়। বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর সাইফুজ্জামান চৌধুরী এবং তার স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন দেশে অধিগ্রহণ করা সম্পত্তির একটি তালিকা প্রস্তুত করা হয়। এর মধ্যে যুক্তরাজ্যে অবস্থিত বিপুল পরিমাণ স্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়, যার মধ্যে ৫১৮টি ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে।
দুদক তাদের আবেদনে উল্লেখ করে, এসব স্থাবর সম্পদ যাতে হস্তান্তর বা স্থানান্তর করা না যায়, সেজন্য তা জব্দের প্রয়োজন। সাবেক মন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ ২০১৪ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং ২০১৯ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
সাবেক এক মন্ত্রীর বিরুদ্ধে এত বিশাল অঙ্কের সম্পত্তি জব্দের এই আদেশ দেশে অর্থ পাচার ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে চলমান তদন্তের গুরুত্ব তুলে ধরে। এই সিদ্ধান্তের ফলে তদন্তের অগ্রগতি আরও জোরালো হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সাথে এটি সাধারণ মানুষের মধ্যে দুর্নীতির বিরুদ্ধে বিচারিক প্রক্রিয়ার ওপর আস্থা বাড়াতে ভূমিকা রাখবে, যদিও এমন ঘটনার পূর্ণাঙ্গ নিষ্পত্তির জন্য দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়।





