টিকার অভাবে শিশুদের মৃত্যু! অন্তর্বর্তী সরকারের সেই ভুলে দেশজুড়ে আতঙ্ক

বাংলাদেশে শিশুদের বিভিন্ন রোগের টিকা সরবরাহ নিয়ে সংকট দেখা দিয়েছে, যার ফলে একাধিক শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই সংকটের জন্য সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারকে দায়ী করা হচ্ছে। ক্ষমতাসীন দল বিএনপির মন্ত্রী ও নেতারাও এই অভিযোগ তুলেছেন। সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমের বিরুদ্ধেও দায় রয়েছে বলে অনেকে বলছেন এবং তাকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার দাবিও উঠেছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকা কেনার পদ্ধতিতে আগের সরকারের ‘অদূরদর্শী’ সিদ্ধান্তের কারণেই সাধারণ মানুষকে ভুগতে হচ্ছে। তাদের মতে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় টিকা ক্রয়ের সিস্টেমে পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ছাড়াই নেওয়া হয়। এর ফলে টিকা কার্যক্রম বিঘ্নিত হয়েছে এবং দেশের স্বাস্থ্যখাতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
মূলত, দাতানির্ভরতা কমাতে এবং নিজেদের সক্ষমতা বাড়াতে ‘সেক্টর প্রোগ্রাম’ থেকে সরে আসার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার তা হঠাৎ করে বন্ধ করে দিয়ে নিজেরাই টিকা কেনার সিদ্ধান্ত নেয়। এই প্রক্রিয়ায় ইউনিসেফকে বাদ দেওয়া, অর্থছাড় ও হিসাব নিরীক্ষাসহ বিভিন্ন জটিলতায় প্রায় ছয় মাস টিকা কেনা বন্ধ থাকে। ফলে ২০২৫ সালের শেষ প্রান্তিকে বিভিন্ন জেলায় শিশুদের টিকার সংকট দেখা দেয়।
এই পরিস্থিতির কারণে ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, বরিশালসহ বিভিন্ন জেলায় হামের প্রকোপ বেড়েছে। পাঁচ শতাধিক মানুষ আক্রান্ত হয়েছে, যাদের বেশিরভাগই শিশু। এছাড়াও যক্ষা, পলিও, নিউমোনিয়া, ডিপথেরিয়া, ধনুষ্টংকারসহ বেশ কয়েকটি রোগের টিকার সংকটও দেখা দিয়েছে।
সরকার পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে। নয় মাসের কম বয়সী শিশুদের জন্যও হামের টিকা দেওয়া হচ্ছে এবং টিকার বয়সসীমা ছয় মাস নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি, হামসহ অন্যান্য টিকা কেনার জন্য নতুন করে ছয়শ’ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।





