জাতীয়

মুসলিম জনসংখ্যা বৃদ্ধি নিয়ে যা ঘটেছিল? ইতিহাস জানলে চমকে যাবেন!

১৮৭২ সালে প্রকাশিত এডওয়ার্ড টুইট ডাল্টনের ‘Descriptive Ethnology of Bengal’ বইয়ে নিম্নবর্ণের হিন্দুদের থেকে বাংলার মুসলমানদের উৎপত্তি তত্ত্বের সমর্থন জানানো হয়। এরপর ১৮৮১ ও ১৮৯১ সালের আদমশুমারিতে দেখা যায়, বাংলায় মুসলমানদের সংখ্যা হিন্দুদের চেয়ে বেশি। এই তথ্যের ভিত্তিতে অনেকে মনে করেন, এটি নিম্নবর্ণের হিন্দুদের ধর্মান্তরের ফলে হয়েছে। কিন্তু এই ধারণার স্বপক্ষে কোনো নির্দিষ্ট উদাহরণ মেলেনি। বরং আদমশুমারি ব্যবস্থাপনার উন্নতি এবং মুসলমানদের সহযোগিতার কারণেই এই সংখ্যাগত পার্থক্য দেখা গিয়েছিল।

১৮৯১ সালের আদমশুমারি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ১৮৭২ সালের পর থেকে প্রতি ১০ হাজার মানুষের মধ্যে গড়ে ১৫৭ জন ইসলাম গ্রহণ করেছে, যা একটি উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। ডব্লিউ ডব্লিউ হান্টারও ‘Indian Musalmans’ গ্রন্থে নিম্নবর্ণের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কাছে ইসলামের বার্তা ও সমতার কথা বলে এই তত্ত্বকে সমর্থন করেন।

তবে, ১৮৯২ সালে এইচ এইচ রিসলির ‘The Tribes and Castes of Bengal’ গ্রন্থে এই তত্ত্বকে আরও জোরদার করা হয়, যেখানে তিনি নৃতাত্ত্বিক তথ্য দিয়ে নিম্নবর্ণের হিন্দুদের ধর্মান্তরের বিষয়টি তুলে ধরেন।

এর বিপরীতে, মুর্শিদাবাদের দেওয়ান খন্দকার ফজলে রাব্বি ১৮৯৩ সালে ফারসি ভাষায় ‘হাকিকতে মুসলমানে বাঙ্গালাহ’ গ্রন্থ রচনা করে এই তত্ত্বকে চ্যালেঞ্জ জানান। তিনি উল্লেখ করেন, ১২০৩ সালে বাংলায় মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠার পর থেকে ব্রিটিশদের দেওয়ানি লাভ পর্যন্ত প্রায় ৫৬২ বছর ধরে বিভিন্ন জাতি ও পেশার বহু মুসলমান বাংলায় এসে বসতি স্থাপন করেন। আফগান, তুর্কিস্তান, ইরান, আরবসহ নানা দেশ থেকে আসা এসব মুসলিম শাসকেরা তাদের শাসন সুদৃঢ় করতে নিজ ধর্মাবলম্বীদের বসতি স্থাপনে উৎসাহিত করেছিলেন। খন্দকার রাব্বি জোরপূর্বক ধর্মান্তরিত করার তত্ত্বকেও প্রশ্নবিদ্ধ করেন এবং বলেন যে, মুসলিম শাসকদের বিদেশি উৎসের কারণেই বাংলায় বিপুল মুসলিম জনসংখ্যার সৃষ্টি হয়েছিল।

এই বিভাগের আরও

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button