জাতীয়

আর কত রক্ত ঝরলে থামবে এই বিভীষিকা? কন্যাশিশুদের ভাগ্যে কি লেখা আছে?

দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ঘটে যাওয়া কয়েকটি মর্মান্তিক ঘটনা আবারও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে, আমাদের সমাজে শিশুরা কতটা অসহায় ও নিরাপত্তাহীন। আট থেকে দশ বছর বয়সী তিনটি কন্যাশিশু, যারা ভিন্ন ভিন্ন এলাকার বাসিন্দা হলেও একই নিয়তির শিকার হয়েছে। তাদের মধ্যে দুজন ধর্ষণে ব্যর্থ হওয়ায় নৃশংসভাবে খুন হয়েছে, আর একজন ধর্ষণের শিকার হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে। এই ঘটনাগুলো সমাজে শিক্ষক, প্রতিবেশী বা স্বজনের কাছ থেকেও শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর প্রশ্ন তুলছে।

বরিশালের বাবুগঞ্জে এক স্কুলছাত্রী কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় প্রতিবেশীর আগুনে পুড়ে মর্মান্তিকভাবে মারা গেছে। ১৫ মার্চ রাতে জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর আগে মেয়েটি এক ভিডিওতে জানায়, ‘আমারে খারাপ জিনিস কইছে, আমি হুনি নাই দেইখা পাশের বাড়ির শিফাত আমার গায় আগুন দিছে।’ যদিও পুলিশের ভাষ্য, এমন অভিযোগ নিয়ে কেউ থানায় আসেনি, তবে প্রশ্ন উঠছে, অভিযোগ না আসলে কি পুলিশ ব্যবস্থা নিতে পারে না?

অন্যদিকে, চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে চকলেটের প্রলোভন দেখিয়ে এক আট বছরের শিশুকে ডেকে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। মৃত্যুর আগে শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলেও ডাক্তারদের সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়।

রাজশাহীতে এক মাদরাসা সুপার কর্তৃক দশ বছরের এক আবাসিক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে শিশুটি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন। যদিও অভিযুক্ত সুপারের দাবি, তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেছেন, তবে মাদরাসায় ছাত্রীর সংখ্যা কমে যাওয়ার বিষয়টি তদন্তের দাবি রাখে।

উল্লেখ্য, দেশে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হলেও তা ধর্ষণ ঠেকাতে পারছে না। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বিগত বছরগুলোতে নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলার সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য দ্রুত বিচার এবং রায় কার্যকর করা অপরিহার্য। পাশাপাশি, পরিবার থেকে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং এ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করা অত্যন্ত জরুরি।

এই বিভাগের আরও

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button