রমজানে বইমেলা উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর: বিতর্ক আর আশঙ্কার মাঝেই শুরু

অমর একুশে বইমেলা ২০২৬-এর উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার বিকেল সোয়া ৩টার দিকে তিনি বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে এই বর্ণিল সাংস্কৃতিক আয়োজনের পর্দা তোলেন। তিন দফা তারিখ পরিবর্তন এবং প্রকাশকদের বিভিন্ন দাবি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা চললেও, শেষ পর্যন্ত বইপ্রেমীদের জন্য প্রস্তুত হয়েছে এই বৃহৎ প্রাঙ্গণ।
এবারের বইমেলা পবিত্র মাহে রমজানে অনুষ্ঠিত হওয়ায় এর আয়োজনে এক ভিন্ন মাত্রা যোগ হয়েছে। মেলাকে ঘিরে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলেছে। রমজান মাসে মেলা হওয়া নিয়ে প্রকাশকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
রুহামা পাবলিকেশনের স্বত্বাধিকারী রফিকুল ইসলাম জনতা টাইমসকে জানান, “এবারের একুশে বইমেলা পবিত্র মাহে রমজানে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা আমাদের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। রমজান আত্মশুদ্ধি, সংযম ও জ্ঞানচর্চার মাস। আমরা বিশ্বাস করি, এই পবিত্র আবহে জ্ঞান অন্বেষণ ও চর্চা আরও ফলপ্রসূ হবে।”
অন্যদিকে, প্রগতি পাবলিকেশনের প্রকাশক আশরার মাসুদ রমজান মাসে বইমেলা হওয়ায় অর্থনৈতিক ক্ষতির আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তিনি মনে করেন, “রমজান মাসে মেলা সাধারণত জমে ওঠে না, এতে ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।”
ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অ্যাডমিন) সরওয়ার গতকাল এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জানিয়েছেন, বইমেলাকে ঘিরে সম্ভাব্য কোনো নিরাপত্তা হুমকির সুনির্দিষ্ট তথ্য না থাকলেও সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে পুলিশ। মেলা প্রাঙ্গণ ও আশপাশের এলাকা ২৪ ঘণ্টা কঠোর নজরদারিতে থাকবে। কন্ট্রোল রুম থেকে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সরাসরি নিরাপত্তা তদারকি করবেন। তিনি আরও বলেন, “বইমেলাকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিত কোনো বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা নেই। তবে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানতে পারে বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিঘ্নিত করতে পারে—এমন কোনো প্রকাশনা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
নিরাপত্তার জন্য ইউনিফর্মধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে বিশেষ টিম, ফুট প্যাট্রোল ও মুক্তমঞ্চকেন্দ্রিক বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকবে। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় ডিবি, সিটিটিসি, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ও সোয়াটসহ বিশেষায়িত ইউনিট প্রস্তুত থাকবে।
ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ পৃথক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। বইমেলা চলাকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় দিনে ও রাতে ভারী যানবাহন প্রবেশে কড়াকড়ি থাকবে। টিএসসি থেকে দোয়েল চত্বর পর্যন্ত সড়ক সার্বক্ষণিক বন্ধ না রেখে দর্শনার্থীর চাপ বিবেচনায় খোলা বা বন্ধ রাখা হবে। ফুলার রোড, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ ও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার-সংলগ্ন এলাকায় নির্ধারিত পার্কিং ব্যবস্থার সুযোগ থাকবে। নো-পার্কিং জোনে গাড়ি রাখলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এছাড়া, মেলা প্রাঙ্গণ পলিথিন ও ধূমপানমুক্ত রাখতে কঠোর নজরদারি থাকবে এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় আয়োজক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা হয়েছে।
রমজান মাসে বইমেলার আয়োজন একদিকে যেমন জ্ঞানচর্চা ও আত্মশুদ্ধির সুযোগ করে দিয়েছে, তেমনি অন্যদিকে এটি প্রকাশকদের জন্য এক নতুন অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ নিয়ে এসেছে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে বইমেলা কতটা সফল হবে, সেদিকেই এখন সবার দৃষ্টি





