পল্লী বিদ্যুতের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মন্ত্রীর বৈঠক: কী আসছে বড় পরিবর্তন?

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ এবং প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত সোমবার দুপুরে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় মিলিত হয়েছেন। আরইবির নিজস্ব অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন সংস্থার চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল এস এম জিয়া-উল-আজিম। বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব ফারজানা মমতাজও সভায় উপস্থিত ছিলেন।
সভায় আরইবির পক্ষ থেকে বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার বর্তমান কার্যক্রম ও অর্জিত সাফল্য তুলে ধরা হয়। ১৯৭৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এই সংস্থাটি গ্রামীণ বিদ্যুতায়নের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, ক্ষুদ্র শিল্পের বিকাশ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং নারীর ক্ষমতায়নে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে।
মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ তাঁর বক্তব্যে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মধ্যকার সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানের ওপর জোর দেন এবং এই প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করার নির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, “মানসম্মত ও নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সেবা নিশ্চিত করতে এই প্রতিষ্ঠানকে আরও শক্তিশালী করা হবে, দুর্বল করার কোনো উদ্যোগ নেওয়া হবে না।” প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতও পল্লী বিদ্যুতায়ন কার্যক্রমে ধারাবাহিকতা বজায় রাখার আশ্বাস দেন।
বিদ্যুৎ সচিব ফারজানা মমতাজ বিদ্যুৎ সেবার মানোন্নয়নে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দেন। তিনি ঝড়-বৃষ্টির পর দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে লাইনে ফল্ট লোকেটর স্থাপন, সিস্টেম লস কমানোর জন্য বিতরণ লাইনের দৈর্ঘ্য হ্রাস এবং জ্বালানি সাশ্রয়ে ডিজেল চালিত পাম্পের পরিবর্তে সোলার পাম্প ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি, আধুনিক ও টেকসই বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য নতুন প্রকল্পের প্রস্তাবনা বিদ্যুৎ বিভাগে পাঠানোর নির্দেশনাও দেন।
দেশের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নতি ও জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে এই মতবিনিময় সভা থেকে নতুন কী নির্দেশনা আসে এবং তা বাস্তবায়িত হলে সাধারণ মানুষের জীবনে কী প্রভাব পড়বে, সেদিকেই এখন সবার দৃষ্টি থাকবে।





