জাতীয়

বিদেশে পাচার হওয়া ৪৪ কোটি টাকা কি ফেরত আসছে? সিআইডির চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস!

অনলাইন পনজি স্কিম এমটিএফই-এর মাধ্যমে প্রতারণা করে বিদেশে পাচার হওয়া বিপুল অঙ্কের অর্থের একটি বড় অংশ উদ্ধার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রায় ৩.৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪৪ কোটি টাকার বেশি, দেশে ফেরত আনা হয়েছে। এটি সাম্প্রতিক সময়ে সাইবার প্রতারণা দমনে এক বড় সাফল্য।

সিআইডি সদর দপ্তরে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সংস্থাটির ডিআইজি আবুল বাশার তালুকদার জানান, ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ফরেক্স ট্রেডিংয়ে উচ্চ মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে এমটিএফই সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। ২০২২ সালের জুন মাসে বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করে এই প্ল্যাটফর্মটি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সহজে আয় করার বিজ্ঞাপন দিয়ে সাধারণ মানুষকে বিনিয়োগে উদ্বুদ্ধ করা হতো। ব্যবহারকারীদের ট্রেডিং অ্যাকাউন্টে কৃত্রিমভাবে লাভ দেখিয়ে আস্থা তৈরি করা হলেও বাস্তবে এসব লেনদেন ছিল ভুয়া।

২০২৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে এমটিএফই হঠাৎ কার্যক্রম গুটিয়ে নিলে হাজারো বিনিয়োগকারী তাদের অর্থ হারান। তদন্তে জানা যায়, বিনিয়োগকারীদের অর্থ ক্রিপ্টোকারেন্সি ওয়ালেটের মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা হয়েছে। সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি) ব্লকচেইন বিশ্লেষণ টুল ব্যবহার করে পাচার হওয়া অর্থের একটি অংশ আন্তর্জাতিক ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ শনাক্ত করে। সংশ্লিষ্ট এক্সচেঞ্জের সঙ্গে যোগাযোগ ও আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে অর্থ ফেরতের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

আদালতের নির্দেশনায় সোনালী ব্যাংক পিএলসি-তে “CID, Bangladesh Police” নামে একটি সরকারি হিসাব খোলা হয়, যেখানে উদ্ধারকৃত অর্থ জমা রাখা হয়েছে। এছাড়াও যুক্তরাজ্যভিত্তিক অ্যাসেট রিয়েলিটি লিমিটেডের সহায়তায় ক্রিপ্টোকারেন্সিকে বৈধ মুদ্রায় রূপান্তর করে দেশে আনা হয়েছে।

সিআইডি জানিয়েছে, এ পর্যন্ত মোট ৩৬ লাখ ২২ হাজার ৯৯৮ মার্কিন ডলার, অর্থাৎ প্রায় ৪৪ কোটি ১৪ লাখ টাকার বেশি উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর পাশাপাশি কূটনৈতিক সহায়তাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং ভুক্তভোগীদের শনাক্ত করে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী অর্থ ফেরত দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এমটিএফই চক্রের মাধ্যমে পাচার হওয়া বাকি অর্থ শনাক্ত ও উদ্ধারের কাজও চলছে।

এই বিভাগের আরও

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button