নির্বাচনের পর যা বললেন সাধারণ মানুষ, শুনলে অবাক হবেন!

দেশের মানুষ কষ্ট করে গ্রামে যান শুধু একটি ভোট দেওয়ার জন্য। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পেরে তারা যে শান্তি পান, তা পরিমাপ করা সম্ভব নয়। হাসপাতালের রোগীও ভোট দিতে এসেছেন। অনেকেই আশা করেন না, এমপি নির্বাচিত হলে তাদের রাতারাতি ধনী করে দেবেন। বরং তারা চান একটুখানি শান্তি আর স্বস্তি। সাধারণ মানুষের এই চাওয়াগুলো পূরণ করা সরকারের পক্ষে অসম্ভব নয়, প্রয়োজন শুধু আন্তরিকতা। তবে বছরের পর বছর এই সাধারণ চাওয়াগুলো অপূর্ণ থেকে যায়, যা দিন দিন আরও জটিল রূপ ধারণ করে।
সাধারণ মানুষের এই মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণ করতে না পারায় অতীতে কোনো সরকারই বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েও পুনরায় ক্ষমতায় আসতে পারেনি। ১৯৯১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত প্রতিবার সুষ্ঠু নির্বাচনে জনগণ সরকার পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছে। এর মূলে ছিল সাধারণ মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণে সরকারের বড় ধরনের ব্যর্থতা।
মূলত, ক্ষমতার প্রতি শাসকগোষ্ঠীর সীমাহীন লোভ এবং আজীবন ক্ষমতায় থাকার আকাঙ্ক্ষাই সাধারণ মানুষের মুক্তির পথে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাজারব্যবস্থার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এই শোষণ ব্যবস্থার অবসান চায় দেশের মানুষ। তারা বাজারকেন্দ্রিক সিন্ডিকেট, অনিয়ম এবং অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর পদক্ষেপ দেখতে চায়। সরকার চাইলে পণ্যের স্বাভাবিক দাম নিশ্চিত করা অসম্ভব নয়। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মডেল অনুসরণ করে বাজারকে রাহুমুক্ত করা সম্ভব, যা তিনি অতীতে করেছিলেন।
অন্যদিকে, বিদ্যুৎ খাতেও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। বিগত দেড় যুগে ক্যাপাসিটি চার্জ বাবদ বিপুল পরিমাণ অর্থ লুট হয়েছে বলে দাবি বিএনপি’র। তারা বিদ্যুৎ খাতের হাজার হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দলীয় স্বার্থে ভাগবাটোয়ারা করে দেওয়ার অভিযোগ করেছে। এই খাতে দীর্ঘমেয়াদী কোনো স্থায়ী সমাধান না করে উচ্চমূল্যে বিদ্যুৎ আমদানির মাধ্যমে দেশকে ঝুঁকির মুখে ফেলা হয়েছে।
এছাড়া, দেশে ঘুস, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও লুটপাট প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিয়েছে। সাধারণ মানুষের সরকারি সেবা পেতেও এসবের সম্মুখীন হতে হয়। যদিও শুধু উন্নয়ন কার্যক্রমের নামে হওয়া এই লুটপাট বন্ধ করতে পারলেই দেশের চেহারা বদলে দেওয়া সম্ভব।
অন্যদিকে, দেশে জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে মানুষের মধ্যে তীব্র ভীতি ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। গণধর্ষণের পর হত্যা, দাদি-নাতনি হত্যার মতো লোমহর্ষক ঘটনা সাধারণ মানুষের মনে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করেছে। সরকারি দলের লোকজন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধেও অভিযোগ উঠেছে। মানুষের জীবন ও সম্মানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এসব অরাজকতা দূর করে দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণের কোনো বিকল্প নেই।
নতুন সরকারের কাছে মানুষ আইনের শাসন, ন্যায়পরায়ণতা ও মানবিকতা ভিত্তিক রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের প্রত্যাশা করে। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, বিরোধী মতের প্রতি সম্মান জানানো এবং তাদের গঠনমূলক সমালোচনাকে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। দমন-পীড়ন ও ধ্বংসাত্মক নীতি প্রত্যাখ্যান করে জনভোগান্তি দূর করে জন-আস্থার প্রতিদান দিতে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। শিক্ষিত যুবসমাজের জন্য কর্মসংস্থান, মেধার মূল্যায়ন, বেকারত্ব দূরীকরণ এবং শোষণ ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা প্রধান দাবি। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের মানোন্নয়নও জরুরি।





