মায়ের পর বাবার মৃত্যু: প্যারোলে মুক্তি পাওয়া দুই ভাইয়ের পরিবারে শোকের ছায়া আরও গভীর

কক্সবাজারের রামুতে রাজনৈতিক মামলায় কারাগারে বন্দি দুই সহোদর ফরিদুল আলম ও মোহাম্মদ ইসমাইলের বাবা নূর আহমদ (৯০) মারা গেছেন। মাত্র কয়েকদিন আগে তাদের মা মোস্তফা বেগম (৮০) মৃত্যুবরণ করেছিলেন। সেই সময় পুলিশি পাহারায় হাতকড়া পরা অবস্থায় প্যারোলে মুক্তি পেয়ে দুই ভাই মায়ের জানাজায় অংশ নিয়েছিলেন, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। এবার বাবার মৃত্যুতে পরিবারে শোকের ছায়া আরও ঘনীভূত হয়েছে।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় নিজ বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন নূর আহমদ। এর আগে গত শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বার্ধক্যজনিত কারণে মারা যান তাদের মা মোস্তফা বেগম। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রামুর দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়নের পানেরছড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ সংলগ্ন মাঠে মরহুম নূর আহমদের জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
প্রায় আড়াই মাস ধরে রাজনৈতিক মামলায় কারাগারে বন্দি রয়েছেন ফরিদুল আলম ও মোহাম্মদ ইসমাইল। মায়ের মৃত্যুর পর জানাজা ও দাফনে অংশ নিতে তারা পাঁচ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি পেয়েছিলেন। মায়ের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে হাতকড়া পরিহিত অবস্থায় তাদের যে ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল, তা সাধারণ মানুষের মনে গভীর দাগ কাটে এবং আইনি প্রক্রিয়ার মানবিক দিক নিয়ে প্রশ্ন তোলে। জানাজা শেষে তাদের পুনরায় কারাগারে পাঠানো হয়েছিল।
এদিকে, ইসমাইলের স্ত্রী কুলছুমা বেগম দাবি করেছেন, তার স্বামী নির্দোষ এবং কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নন। তিনি বলেন, “আমার স্বামী কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নয়। তাকে অহেতুক মামলায় জড়িয়ে জেল খাটানো হচ্ছে। বাবা-মা দুজনই মারা গেলেন, অথচ সন্তান হিসেবে তাদের শেষ সেবাটুকুও করতে পারলেন না।” পরিবারের পক্ষ থেকে বাবার জানাজায় অংশ নিতে আবারও দুই ভাইয়ের প্যারোলে মুক্তির জন্য আবেদন করা হয়েছে।
রামু থানা ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ফরিদুল ও ইসমাইল নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। আড়াই মাস আগে খুনিয়াপালং ইউনিয়নের একটি মামলায় তাদের আটক করা হয়। সেই মামলায় জামিন পেলেও পরবর্তী সময়ে দক্ষিণ মিঠাছড়ি ও সর্বশেষ বিএনপি নেতা মাহিন চৌধুরীর দায়ের করা একটি মামলায় তাদের পুনরায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। বর্তমানে তারা কারাগারেই আটক রয়েছেন।
পরিবার এখন তাকিয়ে আছে কর্তৃপক্ষের দিকে, তাদের মানবিক আবেদন কতটা গুরুত্ব পায় এবং দুই ভাই তাদের বাবার জানাজায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পান কি না। এই শোকের মুহূর্তে তাদের পাশে দাঁড়ানো এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি





