চাকরিজীবীদের জন্য সরকার নামালো নতুন নির্দেশিকা: বিদ্যুৎ, জ্বালানি ব্যবহারে বড় পরিবর্তন!

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবহারে কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। পাশাপাশি, প্রতিটি কর্মদিবসে নির্দিষ্ট সময়ে অফিসে আবশ্যিকভাবে অবস্থানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রোববার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা এক পরিপত্রে এই নতুন নিয়মগুলো জানানো হয়েছে। একইসাথে, সারা দেশের পেট্রোল পাম্পগুলোতে নিয়োজিত ট্যাগ অফিসারদের কর্মপরিধিও নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, দিনের বেলায় প্রাকৃতিক আলো থাকলে বৈদ্যুতিক বাতি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে হবে। অফিস চলাকালীন শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় সংখ্যক লাইট, ফ্যান, এয়ার কন্ডিশনার ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করতে হবে। এয়ার কন্ডিশনার ব্যবহারের ক্ষেত্রে তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার উপরে রাখতে হবে। অফিস কক্ষ ত্যাগ করার সময় বাতি, ফ্যান, এয়ার কন্ডিশনসহ সকল বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম বন্ধ করে দিতে হবে। এছাড়া, অফিসের করিডোর, সিঁড়ি, ওয়াশরুম ইত্যাদি স্থানে অপ্রয়োজনীয় বাতি ব্যবহার বন্ধ রাখতে হবে। অফিস সময় শেষে সকল বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম বন্ধ নিশ্চিত করার পাশাপাশি সরকারি নির্দেশনা ছাড়া আলোকসজ্জা পরিহার করতে হবে। কঠোরভাবে জ্বালানি সাশ্রয়ের পাশাপাশি অফিস পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখারও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এই নির্দেশনাগুলো প্রতিপালন ও তদারকির জন্য সব দপ্তর, সংস্থা ও কার্যালয়কে ভিজিল্যান্স টিম গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, জ্বালানি তেলের বিপণন, পরিবহন ও বিতরণ কার্যক্রম তদারকির জন্য সরকার দেশব্যাপী প্রতিটি ফিলিং স্টেশনে একজন করে ট্যাগ কর্মকর্তা নিয়োগ করেছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা নতুন পরিপত্র অনুযায়ী, মাঠপর্যায়ে জ্বালানি তেল গ্রহণ, মজুদ, বিক্রি ও সরবরাহ ব্যবস্থার প্রতিটি ধাপ নিবিড়ভাবে তদারকি করবেন এই ট্যাগ কর্মকর্তারা। তারা প্রতিদিন ফিলিং স্টেশনের জ্বালানি মজুদ রেকর্ডভুক্ত করার পাশাপাশি ডিপো থেকে সরবরাহকৃত জ্বালানি সঠিকভাবে পরিমাপ ও গ্রহণ নিশ্চিত করবেন। এছাড়াও, ডিসপেন্সিং মেশিনের দৈনিক মিটার রিডিং রেজিস্ট্রার পর্যবেক্ষণ, বিক্রয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য যাচাই এবং প্রতিদিন বিক্রয় শেষে সমাপনী মজুত পর্যালোচনা করার দায়িত্ব থাকবে তাদের উপর। ফিলিং স্টেশনের আশপাশে কোনো অননুমোদিত ট্যাংক বা স্থাপনা আছে কিনা তা পরীক্ষা করাও তাদের অন্যতম দায়িত্ব। জ্বালানি গ্রহণের পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিক্রি শুরু না হলে তা লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে এবং এর জন্য সতর্কতা, ভ্রাম্যমাণ আদালত ও সাময়িক স্থগিতাদেশের মতো ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে এসব কর্মকর্তাকে।





