ভূমধ্যসাগরে ২১ বাংলাদেশি জীবিত উদ্ধার! কিন্তু যা ঘটল তারপর…

লিবিয়া থেকে অবৈধভাবে গ্রিসে যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবির ঘটনায় ২১ বাংলাদেশি নাগরিকের সঙ্গে সরকারের যোগাযোগ স্থাপন করা হয়েছে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গ্রিসে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস জীবিতদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছে এবং তাদের পরিচয় ও বর্তমান অবস্থা যাচাইয়ের কাজ চলছে। বর্তমানে আহতদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং অন্যদের একটি ক্যাম্পে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, এই মর্মান্তিক ঘটনায় নারী ও শিশুসহ অনেকেই প্রাণ হারিয়েছেন, যা মানবিক দিক থেকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এটি স্পষ্ট প্রমাণ করে যে পাচারকারীরা মানুষের জীবনের তোয়াক্কা না করেই তাদের ভয়াবহ ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। তিনি বলেন, প্রতিটি ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি, কারণ ভুল তথ্যের উপর ভিত্তি করে দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়ায় জটিলতা দেখা দিতে পারে। জীবিতদের দেশে ফিরিয়ে আনা একটি ধাপে ধাপে সম্পন্ন হওয়া প্রক্রিয়া, যেখানে পরিচয় নিশ্চিতকরণ, গ্রিস সরকারের প্রশাসনিক নিয়মাবলী অনুসরণ এবং শারীরিক ও আইনি অবস্থা বিবেচনা করা হবে।
প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, এই ঘটনার পেছনে একটি সংঘবদ্ধ আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্র জড়িত, যারা বাংলাদেশ ও লিবিয়া উভয় দেশেই সক্রিয়। তারা উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রায় পাঠায় এবং বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার পর তাদের জীবন বিপন্ন করে তোলে। তিনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবিলম্বে এই চক্রটিকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দিয়েছেন। প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক ও বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী বিচার নিশ্চিত করার কথাও বলেছেন। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়সহ অন্যান্য সংস্থাগুলো ঘটনাটি তদন্ত শুরু করেছে এবং শুধু এই ঘটনার বিচার নয়, মানবপাচার বন্ধে দীর্ঘমেয়াদী কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন।





