৫ আগস্টের পর দায়ের হওয়া মামলা যাচাইয়ের নির্দেশ: স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে নিরীহ মানুষেরা

আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ৫ আগস্ট থেকে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে যেসব মামলা দায়ের হয়েছিল, সেগুলোর পুনরায় যাচাই-বাছাইয়ের নির্দেশ দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। নবনিযুক্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ আজ সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সকল অধিদপ্তর ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে এক বৈঠক শেষে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। তার এই নির্দেশনার ফলে নিরীহ মানুষ যাতে অযথা ভোগান্তির শিকার না হন, সেই প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, ৫ আগস্টের পর কিছু সুবিধাবাদী ব্যক্তি বিভিন্ন পেশার মানুষ, যেমন ব্যবসায়ী ও সাংবাদিকদের নামে মামলা করেছে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় এসব মামলার সঠিকতা যাচাই করা হবে। পুলিশকে এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৈঠকে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনা পুনরায় তদন্ত করা হবে। এছাড়া, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের তিন মেয়াদে ইস্যু করা অস্ত্রের লাইসেন্সগুলো যাচাই-বাছাই করা হবে। মন্ত্রী বলেন, যারা যথাযথ প্রক্রিয়া মেনে লাইসেন্স পাওয়ার যোগ্য ছিলেন, তাদের লাইসেন্স বহাল থাকবে। তবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য অথবা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য দেওয়া লাইসেন্সগুলো বাতিল করা হবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে পুলিশের কাজে কোনো ধরনের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বরদাস্ত করা হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি পুলিশের কাজে স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং সাধারণ মানুষের হয়রানি হয় এমন কোনো কাজ না করার নির্দেশ দেন। পুলিশের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই ঘোষণা নিরীহ মানুষের মাঝে আশার সঞ্চার করেছে। আগামী দিনগুলোতে এই নির্দেশনার সুষ্ঠু বাস্তবায়ন এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জনগণের আস্থা কতটা ফিরে আসে, এখন সেটাই দেখার বিষয়





