আইনশৃঙ্খলা ও জনসেবায় নতুন অঙ্গীকার, জনগণের মনে স্বস্তি ফেরার আশা

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও জনসেবার মান উন্নয়নে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সোমবার সচিবালয়ে বিভিন্ন বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের জানান, পুলিশে কনস্টেবল নিয়োগ থেকে শুরু করে হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার এবং পাসপোর্ট ও ভূমি সেবায় সংস্কার আনা হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, পদ খালি থাকায় প্রাথমিকভাবে ২৭০১ জন কনস্টেবল নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করবে সরকার। এটি একদিকে যেমন পুলিশ বাহিনীর সক্ষমতা বাড়াবে, তেমনি তরুণদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে।
তিনি পুলিশ প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও যোগ্যতার ওপর জোর দিয়ে বলেন, এখন থেকে এসপি-ওসিসহ বিভিন্ন পদের বদলি যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে করা হবে, যা অন্তর্বর্তী সরকারের লটারির মাধ্যমে বদলির পদ্ধতি থেকে ভিন্ন। অতীতের ‘ফ্যাসিবাদী সরকারের’ সময়কার পুলিশ নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে, তবে এর মাধ্যমে কেউ যেন অযথা হয়রানির শিকার না হন, সেদিকেও নজর রাখা হবে। একইসাথে, ২০০৬ সালে নিয়োগবঞ্চিত এসআই প্রার্থীরা ন্যায়বিচার পাবেন বলেও জানান তিনি।
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ও জনগণের স্বস্তি প্রদানকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ফ্যাসিবাদী সরকারের’ সময়ে ইস্যু করা অস্ত্রের লাইসেন্সগুলো যাচাই করা হবে। আইন অনুযায়ী যারা যোগ্য নয় বা রাজনৈতিক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য লাইসেন্স পেয়েছে, তাদের লাইসেন্স বাতিল ও অস্ত্র বাজেয়াপ্ত করা হবে।
পুলিশের কাজে কোনো ধরনের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ হবে না জানিয়ে তিনি বলেন, পুলিশও নিজেদের কাজের জন্য জবাবদিহিতার আওতায় থাকবে এবং আইনের বাইরে কোনো প্রটোকল দিতে পারবে না। এছাড়া, ৫ আগস্টের পর ব্যবসায়ীসহ অনেকের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া হয়রানিমূলক মামলাগুলো যাচাই করে প্রত্যাহার করা হবে। বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনা তদন্তের জন্য আরেকটি কমিশন গঠনের কথাও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
মব কালচারের মাধ্যমে দাবি আদায়ের দিন শেষ মন্তব্য করে সালাহউদ্দিন আহমদ হুঁশিয়ারি দেন যে, যৌক্তিক দাবি ছাড়া রাস্তা বন্ধ করলে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেবে।
জনগণের দৈনন্দিন সেবায় দুর্ভোগ কমাতে পাসপোর্ট অফিস এবং ভূমি সেবায় হয়রানি বন্ধের জন্য বেসরকারি সহায়তাকারী (আউটসোর্সিং) নিয়োগের পরিকল্পনাও প্রকাশ করেন তিনি। এর ফলে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের সেবা প্রাপ্তি সহজ হবে, তেমনি নতুন কর্মসংস্থানও তৈরি হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই ঘোষণাগুলো সরকারের আইনশৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক সংস্কারের প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন। দেশের মানুষ এখন এই পদক্ষেপগুলোর কার্যকর বাস্তবায়ন এবং এর মাধ্যমে জনজীবনে প্রকৃত স্বস্তি ও ন্যায়বিচার ফিরে আসার অপেক্ষায় রয়েছে।





