জাতীয়

বইমেলা নিয়ে স্বস্তির খবর: একদিন পেছালো অমর একুশে বইমেলা, ফিরছে ‘প্রকাশক ঐক্য’

আসন্ন অমর একুশে বইমেলা ২০২৬ একদিন পেছানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলা একাডেমি। নতুন ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে এই মেলা শুরু হবে। একইসাথে মেলায় কোনো প্যাভিলিয়ন না রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে এবং প্রকাশকদের দীর্ঘদিনের দাবি মেনে স্টল ভাড়া সম্পূর্ণ মওকুফ করা হয়েছে। এসব সিদ্ধান্তের ফলে মেলায় অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে প্রকাশকদের সংগঠন ‘প্রকাশক ঐক্য’, যা পূর্বে মেলা থেকে সরে দাঁড়িয়েছিল।

রোববার রাতে বাংলা একাডেমির শহিদ মুনীর চৌধুরী সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ সভায় এই সিদ্ধান্তগুলো গৃহীত হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, সচিব মো. মফিদুর রহমান, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজ্‌ম, সচিব ড. মো. সেলিম রেজা এবং বিভিন্ন প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।

সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অমর একুশে বইমেলা ২০২৬ আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি শুরু হয়ে ১৫ মার্চ পর্যন্ত চলবে। পূর্বে মেলা ২৪ ফেব্রুয়ারি শুরুর কথা ছিল। এবারের বই মেলায় কোনো প্যাভিলিয়ন থাকবে না, তবে বাপুস নেতৃবৃন্দের সহায়তায় ইতিমধ্যে প্যাভিলিয়নপ্রাপ্ত প্রকাশকরা নিজ নিজ প্যাভিলিয়ন সরিয়ে নিতে সম্মত হয়েছেন। এর আগে গত ১৮ ফেব্রুয়ারির এক বৈঠকে বইমেলায় অংশগ্রহণকারী প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানসমূহের স্টল ভাড়া সম্পূর্ণ মওকুফ করার সিদ্ধান্তও গৃহীত হয়েছিল, যা প্রকাশকদের মধ্যে ব্যাপক স্বস্তি এনেছে।

বইমেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব ড. মো. সেলিম রেজা স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

এদিকে, বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে মেলা থেকে সরে দাঁড়ানো প্রকাশকদের সংগঠন ‘প্রকাশক ঐক্য’ মেলায় অংশগ্রহণের ঘোষণা দিয়েছে। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা আসে। এসময় ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহরুখ মহিউদ্দিন জানান, তারা মূলত ঈদের পর বইমেলা আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন, যা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে বাস্তবায়িত হয়নি। তবে বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের মাধ্যমে তাদের বেশ কয়েকটি শর্তে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে। এর ফলেই তারা এবারের বইমেলায় অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনে অনন্যা প্রকাশনীর প্রকাশক মনিরুল হক, বাতিঘরের স্বত্ত্বাধিকারী দীপঙ্কর দাশ, শোভা প্রকাশনীর প্রকাশক মিজান, লেখক আবু সালেহসহ অন্যান্য প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

এই সিদ্ধান্তগুলো প্রকাশনা শিল্প ও পাঠক সমাজে ব্যাপক স্বস্তি এনেছে। দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা ও প্রকাশকদের দাবি-দাওয়া পূরণ হওয়ায়, দেশের বৃহত্তম এই সাংস্কৃতিক উৎসব এবার নতুন উদ্যমে অনুষ্ঠিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এখন বইপ্রেমী মানুষ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন ২৬ ফেব্রুয়ারি তারিখটির জন্য, যখন জ্ঞানের এই মেলা তাদের জন্য উন্মুক্ত হবে।

এই বিভাগের আরও

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button