জাতীয়

জুলাই বিপ্লব: কেন ঘটেছিল সেই রক্তে ভেজা আন্দোলন? জানলে শিউরে উঠবেন!

মাত্র দেড় বছর আগে ঘটে যাওয়া ২০২৪ সালের রক্তাক্ত জুলাই বিপ্লবকে বাঙালী জাতি কি তবে ভুলতে বসেছে? নাকি একটি বিশেষ গোষ্ঠী উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই ঘটনাকে মুছে ফেলার চেষ্টা করছে? একটি শিক্ষিত সমাজও যেন এই “মহান মুক্তি আন্দোলন”কে এক “ক্ষতিকর আন্দোলন” হিসেবে চিত্রিত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত। সম্প্রতি ঢাকার এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের সাথে আলাপে জানা যায়, তিনি শিক্ষার্থীদের বাজে আচরণে ক্ষুব্ধ। অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে, ২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত যারা হাসিনা সরকারের সুবিধাভোগী ছিলেন, তারাই জুলাই বিপ্লবের প্রয়োজনীয়তা ও বিপ্লবীদের আত্মত্যাগকে ভুলিয়ে দেওয়ার অপপ্রয়াস চালাচ্ছেন।

এই পরিস্থিতিতে, যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও মানবাধিকার রক্ষায় বিশ্বাসী, তাদের দায়িত্ব জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে বাঁচিয়ে রাখা এবং এর শিক্ষাকে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া।

**জুলাই আন্দোলন কেন ছাত্রছাত্রীদের রাজপথে নামতে বাধ্য করেছিল?**
২০২৪ সালের জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময়ে, সরকারি চাকরির কোটা সীমিত করার এক অযৌক্তিক সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা রাজপথে নামে। শান্তিপূর্ণ এই আন্দোলনকে নির্মমভাবে দমন করতে সরকার এক গণহত্যাতুল্য অভিযান চালায়। নিরাপত্তা বাহিনী দেশের রাজপথে প্রকাশ্যে প্রায় দেড় হাজার নিরস্ত্র ছাত্রছাত্রীকে গুলি করে হত্যা করে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরো বহু ছাত্রছাত্রী শহীদ হন, এবং অনেকেই পঙ্গুত্ব বরণ করে। হাজার হাজার শিক্ষার্থী গ্রেপ্তার আতঙ্কে সঠিক চিকিৎসা ছাড়াই দিন কাটাচ্ছেন।

ছাত্রছাত্রীদের ওপর পুলিশের বৈষম্যমূলক আচরণ, হয়রানি, নির্বিচারে বাড়িতে ঢুকে হামলা, কিশোরদের হাতে হাতকড়া পরানো – এসব ছিল নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। শাসকদলের গুন্ডারাও ছাত্রছাত্রীদের ওপর নির্যাতন চালাত। আওয়ামী লীগ সরকার শুধু আন্দোলনকারী ছাত্রছাত্রীদেরই নয়, বরং দেশের সমগ্র জনগণের বিরুদ্ধেই এক নৃশংস যুদ্ধ ঘোষণা করেছিল।

যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ করে, কারফিউ জারি করে, সেনাবাহিনী মোতায়েন করে সরকার দমন অভিযান চালিয়েছিল। কিন্তু বিদেশে থাকা দৃঢ়চেতা বাংলাদেশিরা নানা কৌশলে দেশের তথ্য বিশ্ববাসীর কাছে পৌঁছে দেন। প্রচারিত ছবি ও ভিডিও হাসিনা সরকারের আসল রূপ উন্মোচন করে দেয়।

**মৃত্যুভয় উপেক্ষা করে কেন রাস্তায় নেমেছিল শিক্ষার্থীরা?**
২০০৯ সাল থেকে আওয়ামী লীগ সরকার সুষ্ঠু নির্বাচন ছাড়াই ক্ষমতায় টিকে ছিল। ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচন ছিল প্রহসনের। জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। সরকারের কোনো জবাবদিহিতা ছিল না। এছাড়া, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, দুর্নীতি, বিদেশে অর্থ পাচার, এবং বিরোধী দলের ওপর মিথ্যা মামলার খড়গ – এসবই শিক্ষার্থীদের ক্ষুব্ধ করেছিল।

সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলেছিল ছাত্রলীগ নামক সংগঠনটির দ্বারা ক্যাম্পাসে সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের ওপর নির্যাতন। ছাত্রাবাসের সিট দখল, চাঁদাবাজি, রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে যোগদান বাধ্যতামূলক করা, এবং শারীরিক ও যৌন নির্যাতন ছিল সাধারণ ঘটনা। এই অন্যায় আর সহ্য করতে না পেরে, শিক্ষার্থীরা একটি বৈষম্যমুক্ত ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে রাস্তায় নেমে আসে। এভাবেই সংঘটিত হয়েছিল ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব।

প্রশ্ন হলো, আমরা কি আবার সেইJuly Revolution-পূর্ববর্তী বাংলাদেশে ফিরে যাব? আপনি কী চান?

এই বিভাগের আরও

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button