১/১১ কুশীলবদের মুখে চাঞ্চল্যকর তথ্য! তারেক রহমানের জন্য কি করেছিলেন তারা?

২০০৭-০৮ সালের ওয়ান-ইলেভেন (১/১১) সরকারের সময় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জন্য বিদেশে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা এবং কারামুক্তিতে ভূমিকা রাখার চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন ডিজিএফআইয়ের সাবেক প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদ। বর্তমানে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হেফাজতে পাঁচদিনের রিমান্ডে থাকা অবস্থায় তিনি এই তথ্য দিয়েছেন বলে নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে।
জিজ্ঞাসাবাদে মামুন খালেদ জানিয়েছেন, তিনি তারেক রহমানের জন্য যা করেছেন, সবই বিএনপির উপকারের জন্য করেছেন। তবে, বর্তমানে তিনি ভিন্ন বক্তব্যে নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা করছেন। অন্যদিকে, ওয়ান-ইলেভেনের আরেক কুশীলব লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীও জিজ্ঞাসাবাদে নিজের দায় এড়াতে অন্যদের ওপর দোষ চাপাচ্ছেন। তিনি দাবি করেছেন, তিনি জিয়া পরিবারের সদস্যদের উপকারের জন্য কাজ করার চেষ্টা করেছেন।
মামুন খালেদকে গত বুধবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএসের বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন তাকে আদালতে তোলা হলে দেলোয়ার হোসেন হত্যা মামলায় পাঁচদিনের রিমান্ডের আদেশ দেয় আদালত। অন্যদিকে, মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গত সোমবার রাতে বারিধারা ডিওএইচএস থেকে আটক করে মানবপাচার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয় এবং আদালত তারও পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে।
তাদের বিরুদ্ধে শুধু ওয়ান-ইলেভেনের ঘটনা নয়, বরং মেজর জিয়াকে গুম, সাংবাদিক ও ভিন্নমতালম্বীদের ওপর নির্যাতন, এমনকি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে তার বাড়ি থেকে উচ্ছেদের মতো গুরুতর অভিযোগও রয়েছে। এছাড়া, বিডিআর হত্যাকাণ্ডের আগাম তথ্য জেনেও ব্যবস্থা না নেওয়া এবং সেনা কর্মকর্তাদের আবাসন প্রকল্পের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা নয়ছয়েরও অভিযোগ উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে।
রিমান্ডে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী সম্প্রতি এক চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রদান করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর পল্টন মোড়ে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ছিল এক সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার অংশ, যা গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারের বিরুদ্ধে ভিন্ন ধরনের সরকার গঠনের ভারতীয় পরিকল্পনার অংশ ছিল। তিনি আরও জানান, ১/১১ সরকার গঠনে কর্নেল (অব.) অলির যোগসাজশও ছিল।
এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে, মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে ঢাকা ও ফেনীতে ১১টি মামলা দায়ের হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর নামে প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তারা জানতে চাইছেন এই বিপুল অর্থের উৎস ও গন্তব্য কোথায়। ধারণা করা হচ্ছে, মাসুদ চৌধুরীকে দ্বিতীয় দফায় আবারও রিমান্ডে নেওয়া হতে পারে।





