জনবান্ধব পুলিশ বাহিনী গড়তে কর্মকর্তাদের বিশেষ নির্দেশ! যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

একটি নতুন ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে জনবান্ধব পুলিশিং ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে নবীন পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। শনিবার (তারিখ উল্লেখ নেই) রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমীর ৪৩তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের শিক্ষানবিস সহকারী পুলিশ সুপারদের মৌলিক প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্যারেড পরিদর্শন করেন এবং প্রশিক্ষণে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারী কর্মকর্তাদের পদক বিতরণ করেন। তিনি বলেন, নতুন বাংলাদেশে পুলিশ বাহিনীকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থেকে মুক্ত রাখা হবে এবং একটি স্বাধীন ‘পুলিশ সংস্কার কমিশন’ গঠনের মাধ্যমে নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে মেধা ও জ্যেষ্ঠতাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
মন্ত্রী নবীন কর্মকর্তাদের জনগণের সেবক হওয়ার আহ্বান জানান এবং বলেন, ব্রিটিশ আমলের পুরনো আইন পরিবর্তন করে সময়োপযোগী আইন প্রণয়ন করা হচ্ছে। অপরাধীর মনে ভয় এবং নিরপরাধীর মনে শান্তি জাগানোর উপর জোর দেন তিনি। ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণের পাশাপাশি ডিজিটাল অপরাধ দমনে কারিগরি জ্ঞান অর্জনের তাগিদ দেন।
ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সৈনিক হিসেবে নবীন কর্মকর্তাদের উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আইনের প্রতি অবিচল আস্থা, নাগরিকদের প্রতি দায়িত্ব এবং জবাবদিহিতা হবে তাদের কর্মের মূল ভিত্তি। সততা, দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আইনের চোখে সবাই সমান – তা সে রাজনৈতিক কর্মী হোক বা প্রান্তিক কৃষক। শৃঙ্খলা, আনুগত্য ও সমন্বিত নেতৃত্ব একটি বাহিনীর শক্তির মূল ভিত্তি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এছাড়া, পুলিশ বাহিনীর পুরনো পোশাক ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথাও জানান তিনি। এই প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ শেষে, ৭২ জন প্রশিক্ষণার্থী ৬ মাসের বাস্তব প্রশিক্ষণের জন্য দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হবে। কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমীর প্রিন্সিপাল (অ্যাডিশনাল আইজিপি) জি এম আজিজুর রহমান সভাপতিত্ব করেন।





