জাতীয়

শোল মাছের টুকরোগুলো কেন ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছিল? ৭ বছর পর চাঞ্চল্যকর সত্য!

এক শিক্ষকের জীবনে ঘটে যাওয়া এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা, যা তাকে নীরবে বাড়ি ছাড়তে বাধ্য করেছিল। এক শিক্ষার্থিনী কর্তৃক দেওয়া শোল মাছের একটি বিশেষ টুকরোকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া এক জটিল পরিস্থিতি, যার রেশ ধরে ঘটে যায় নানা নাটকীয়তা। দীর্ঘ সাত বছর পর সেই ঘটনার চাঞ্চল্যকর সত্য উন্মোচিত হলো।

সেলিম, একজন সাধারণ শিক্ষক, তার জীবনে অনেক অপূর্ণতা নিয়ে বেঁচে ছিলেন। উদ্দাম যৌবনের স্বপ্নগুলো সুযোগের অভাবে সুপ্ত রয়ে গিয়েছিল। তুলির সঙ্গে এক তিক্ত অভিজ্ঞতার পর কোনো মেয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ তিনি হতে পারেননি। ছাত্রজীবনে নিরীহ স্বভাবের কারণে নারীদের কাছ থেকে তেমন সাড়া পাননি। একটি সরকারি চাকরি পেলেও তা ছিল তার যোগ্যতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।

এক অখ্যাত গ্রামের মাদ্রাসায় খণ্ডকালীন শিক্ষকতা করার সময় তিনি লজিং থাকতেন। সেখানে লজিংয়ের মেয়ে তুলি, অষ্টম শ্রেণি পাস করে নবম শ্রেণিতে ওঠে। সেলিমের বয়ানুক্রমিক দৃষ্টি তুলির শারীরিক গঠনের দিকে গেলেও তিনি নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতেন। গ্রামের ছেলে হওয়ায় সেলিম মাছ ধরায় দক্ষ ছিলেন। পগার থেকে বড় একটি শোল মাছ ধরতে গিয়ে শিং মাছের কাঁটায় আহত হন তিনি।

গুরুতর আহত হওয়ার পর তুলির মা ও নানি কাজে ব্যস্ত থাকায় তুলি সেলিমকে খাবার দেয়। সুযোগ বুঝে তুলি সেলিমের পাতে বড় শোল মাছের টুকরোটি দেয়। এটি দেখে তুলির মা তুলিকে বকাবকি করেন। সেলিম মায়ের অনুশাসনের অর্থ বুঝতে পেরে মাছের টুকরোটি না খেয়ে শোল মাছের ঝোল দিয়ে খাবার শেষ করেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মা-মেয়ের মধ্যে এক স্নায়ুযুদ্ধ শুরু হয়। সেলিমও নিজের ভাগ্যকে ভর্ৎসনা করতে থাকেন।

পরদিন সকালে তুলি সেলিমের ঘরে এসে জানতে চায় কেন সে মাছের টুকরোটি ফেরত দিয়েছিল। সেলিম উত্তর দেয় যে তার মন চায়নি। তুলি মনে করে সেলিম তাদের অপমান করছে। এই ঘটনার পর সেলিম লজিং বাড়ি ছেড়ে চলে যায়।

সাত বছর পর, তুলি ময়মনসিংহ সরকারি হাসপাতালের বারান্দায় সেলিমকে দেখতে পায়। এতদিন পর তাদের দেখা হওয়ায় উভয়েই অবাক হয়। তারা একে অপরের খোঁজখবর নেয় এবং একসাথে একটি রেস্টুরেন্টে খেতে যায়। সেখানে তুলি সেলিমের পাতে শোল মাছের টুকরোটি তুলে দেয়। সেলিম এবার ঝোল দিয়ে খেতে শুরু করে এবং তুলিকে স্মরণ করিয়ে দেয় যে এই ঘটনার জন্যই তাকে বাড়ি ছাড়তে হয়েছিল। তুলি বিনয়ের সাথে অতীত ভুলে সেলিমের সাথে স্বাভাবিক আচরণ করে।

এই বিভাগের আরও

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button