আলেমদের অবহেলা: যা জানেন না সাধারণ মানুষ!

মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলাদেশে আলেম-ওলামারা ধর্মীয় চেতনা জাগ্রত করা, নৈতিক মূল্যবোধ রক্ষা করা এবং সমাজকে সঠিক পথে পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, তারা দীর্ঘকাল ধরে অবহেলা ও বঞ্চনার শিকার। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের জন্য সরকারিভাবে কোনো বেতন-ভাতা প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়নি, যা মুসলিম খেলাফতের সময় প্রচলিত ছিল। বর্তমানে বেশিরভাগ ইমাম মসজিদের কমিটির দেওয়া সামান্য সম্মানির উপর নির্ভরশীল, যা দিয়ে বর্তমান বাজারে জীবনধারণ প্রায় অসম্ভব।
বিভিন্ন সরকার আলেমদের বেতন-ভাতার ব্যাপারে আশ্বাস দিলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। মাদরাসা শিক্ষকরাও বেতন-ভাতা নিয়ে অসন্তুষ্ট এবং এমপিওভুক্তির দাবিতে আন্দোলন করছেন। সাধারণ শিক্ষিতদের সরকারি চাকরিতে প্রবেশের সুযোগ থাকলেও, সরকারিভাবে ইমাম ও আলেমদের জন্য নির্দিষ্ট কোনো চাকরির নিশ্চয়তা নেই। মসজিদ কমিটির ব্যক্তিগত পছন্দে যেকোনো মুহূর্তে ইমামদের চাকরিচ্যুত করা হয় এবং পেনশন বা প্রভিডেন্ট ফান্ডের মতো সুবিধা তাদের কাছে স্বপ্নের মতো।
ইসলামি স্কলার, বক্তা, লেখক ও আলেমদের রাষ্ট্রীয়ভাবে তেমন কোনো মূল্যায়ন নেই। সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা স্বাধীনতা পুরস্কার বা একুশে পদকের মতো পুরস্কারের ক্ষেত্রেও ধর্মীয় ক্ষেত্রে অবদানের জন্য কোনো আলেমকে সম্মাননা দেওয়া হয় না। অথচ, দলীয় আনুগত্যের ভিত্তিতে অনেক বুদ্ধিজীবীকে পুরস্কৃত করা হয়। সরকারিভাবে কোরআন প্রতিযোগিতার মতো আয়োজনও করা হয় না, যা ৯১ শতাংশ মুসলিম দেশে হতাশাজনক। দেশের সম্পদ তরুণসমাজকে সঠিক পথে পরিচালিত করা, মাদক নির্মূল, সামাজিক অবক্ষয় রোধ ও কুসংস্কার পরিহারে আলেমদের এই গুরুত্বপূর্ণ অবদানকে আজ অবজ্ঞা ও অবমূল্যায়ন করা হচ্ছে।





