ত্রয়োদশ সংসদে যা ঘটল… অতীতের ছায়া নাকি নতুন সূর্যোদয়?

নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে শুরু হওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ অধিবেশন অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতা আর মানুষের আকাশছোঁয়া স্বপ্নকে ঘিরে আবর্তিত হচ্ছে। স্বাধীনতার পর থেকে মোট ১২টি জাতীয় সংসদের মধ্যে সাতটি মেয়াদ পূর্ণ করতে ব্যর্থ হয়েছে, যা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক বেদনাদায়ক অধ্যায়। এই প্রেক্ষাপটে, বর্তমান সংসদ জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে কতটা সফল হবে, তা নিয়ে শুরু হয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
সংবিধান অনুযায়ী, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা লাভের পর থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত টানা ছয়টি জাতীয় সংসদ মেয়াদ পূর্ণ করতে পারেনি। পরবর্তীতে ২০২৪ সালে অনুষ্ঠিত সংসদের মেয়াদ পূর্ণ না হওয়ার বিষয়টিও যুক্ত হয়েছে। সব মিলিয়ে, স্বাধীনতার ৫৫ বছরের ইতিহাসে ১২টি সংসদের মধ্যে সাতটি অপূর্ণ থেকে গেছে। অন্যদিকে, ২০০৭ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ১৭ বছরের শাসনকালে সাধারণ মানুষের স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়েছে।
অতীতে মাত্র সপ্তম, অষ্টম, নবম, দশম ও একাদশ সংসদ পাঁচ বছরের মেয়াদ পূর্ণ করতে সক্ষম হয়েছিল। তবে এর মধ্যে অষ্টম, নবম, দশম ও একাদশ সংসদ ছিল বিতর্কিত এবং জনগণের অংশগ্রহণ ছাড়াই পরিচালিত হয়েছিল। গণতন্ত্রের জন্য যুদ্ধ করে স্বাধীন হওয়া একটি জাতি বারবার স্বৈরতান্ত্রিক ও ফ্যাসিবাদী শাসনের শিকার হয়েছে। পশ্চিম পাকিস্তানের ২২ পরিবারের শোষণ থেকে মুক্তি পেলেও, এখন অলিগার্ক বা সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ীদের লুণ্ঠনের শিকার হচ্ছে দেশ।
এরই মধ্যে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের উপর নতুন বাংলাদেশ গড়ার গুরু দায়িত্ব এসে পড়েছে। গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্বৈরাচারী শাসনের অবসানের পর বিএনপির তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতায় আসা এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিএনপি নেতৃত্ব যদি সংসদকে কার্যকর করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে জাতি আরও অন্ধকারে পতিত হবে।
১৯৯১ সালে পঞ্চম জাতীয় সংসদে সংসদীয় পদ্ধতিতে ফিরে আসা এবং দ্বাদশ সংশোধনী পাসের সময় গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার এক চমৎকার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছিল। কিন্তু বিরোধী দলের অসহযোগিতা ও সংসদ বর্জনের কারণে সেই সুযোগ নষ্ট হয়।
অতএব, বর্তমান সংসদকে কার্যকর করার মূল দায়িত্ব সরকারি দলের। অতীতের বেদনাদায়ক রাজনৈতিক ইতিহাস ভুলে, জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে এই সংসদ কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।





